টাকার বিনিময়ে যোগ্য নেতাদের বাদ দিয়ে কমিটি গঠন- রাজনৈতিক সংকটের আশঙ্কা বিএনপির

কমিটিতে থাকতে হলে টাকাই এখন মুখ্য। যিনি যত টাকা দেবেন তিনি তত বড় নেতা হবেন। বলা হচ্ছে- অন্যতম রাজনৈতিক দল বিএনপির ঢাকা মহানগরের কমিটি গঠনের কথা। সেখানে চলছে কমিটি বাণিজ্য। এতে যোগ্য ও রাজপথের পরীক্ষিত নেতারা কমিটি থেকে বাদ পড়েছেন। আর স্থান পেয়েছেন অযোগ্য লোক। এ কারণে দলটির নিবেদিতপ্রাণ নেতাকর্মীরা হতাশ। রাজনীতি বাদ দিয়ে তারা এখন হাত গুটিয়ে নিশ্চুপ আছেন।

ঢাকা মহানগর কমিটি ঘোষণার পর থেকেই নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ সৃষ্টি হয়। তাদের অভিযোগ, অতীতে আন্দোলন সংগ্রামে কোনো ভূমিকা ছিল না- অধিকাংশ থানায় এমন নেতাদের শীর্ষ পদ দেয়া হয়েছে। আবার মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত, তাদের কয়েকটি থানায় শীর্ষ পদে বসানো হয়েছে।

জানা গেছে, পদ দেয়ার বিনিময়ে অর্থের লেনদেনই শেষ কথা নয়, পদ প্রাপ্তি পরবর্তী সময়ে তারা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বাধ্য থাকার বিষয়েও স্বীকারোক্তি নেয়া হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নগর বিএনপির এক শীর্ষ নেতা বলেন, নগর বিএনপির কমিটিগুলো এলোমেলোভাবে করা হয়েছে।  বিএনপির গঠনতন্ত্রে বলা হয়েছে, এক নেতার এক পদ কিন্তু কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে এটার সম্পূর্ণ বিপরীত হয়েছে। যিনি মহানগরে থাকবেন, তিনি থানায় থাকতে পারবেন না। কিন্তু নগর বিএনপির কমিটিতে যিনি আছেন, তিনি আবার থানার কমিটিতেও পদ পেয়েছেন। এ সব হয়েছে মোটা টাকার বিনিময়ে।

শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে ‘পকেট কমিটি’ দেয়ার অভিযোগ করে নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বেশ কয়েক দিন বিক্ষোভ করে পদ বঞ্চিতরা। তাদের সঙ্গে যোগ দেন নির্বাহী কমিটির ৩১ নেতা। এ নিয়ে নেতারা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে চিঠিও দেন। দলের ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতা কর্মীদের বাদ দিয়ে টাকার বিনিময়ে সরাসরি কমিটি করায় শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দের প্রতি অভিযোগ তুলেছেন। কিন্তু কাজের কাজ কিছু হচ্ছে না। বহাল তবিয়তে থাকছে এসব ‘মানি কমিটি’। আর এ কারণে মনোবল হারিয়ে ফেলছেন ত্যাগী নেতারা। অনেক নেতাই বিএনপির রাজনীতি থেকে নিজেদের সরিয়ে নিয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বিএনপির শীর্ষ নেতাদের দুর্নীতির কারণে যোগ্য নেতারা কমিটি থেকে বাদ পড়ছে। এতে পদ প্রত্যাশী ত্যাগী নেতাদের মধ্যে বিরূপ প্রভাব পড়েছে। অনেকে ইতোমধ্যে দল ছেড়ে দেওয়ার কথাও বলছে। এভাবে ত্যাগী নেতারা দল ছেড়ে দিলে ভবিষ্যতে বিএনপি চরম রাজনৈতিক সংকটে পড়বে এবং আন্দোলন পরিকল্পনায় নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।