জাতীয় ঐক্যের ঘোষণায় সুবার্তা আসছে না, কৌশল হচ্ছে’

নিউজ ডেস্ক: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য ঘোষণা হলেও তা কৌশল কিনা এ নিয়ে সংশয় কাটছে না। বরং প্রশ্ন উঠেছে, ২০১৪ সালের নির্বাচনে জামায়াতের সহযোগিতায় বিএনপি দেশের স্থিতিশীলতা যেভাবে নষ্ট করতে উঠে পড়ে লেগেছিলো তারই পরিশুদ্ধ রূপ হিসেবে কী গঠিত হচ্ছে জাতীয় ঐক্য? কেননা, জাতীয় ঐক্যের দাবি ও লক্ষ্য স্পষ্ট করতে গিয়ে কোটা আন্দোলনে নেতৃত্ব দানকারী এবং নিরাপদ সড়কের দাবিতে গ্রেফতাকৃতদের মুক্তির দাবি জানানো হয়েছে। যদিও এরইমধ্যে এই দুই আন্দোলনে যাদের অপরাধ প্রমাণ হয়নি তাদের মুক্তি দেয়া হয়েছে। এখন যারা আছে তারা হয় ছাত্রশিবিরের দীক্ষায় দীক্ষিত অথবা উদ্দেশ্য প্রণোদিত হয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী। ফলে বিশ্লেষকরা মনে করছে, জাতীয় ঐক্য ঘোষণায় অপরাধীদের মুক্তির দাবি সুবার্তা বহন করছে না। বরং নতুন একটি প্রশ্নবিদ্ধ পরিকল্পানাই পরিস্কার হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, ১৫ সেপ্টেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পাঁচ দফা দাবি ও ৯টি লক্ষ্যকে সামনে রেখে ঘোষিত হয়েছে ‘বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য’। জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে যুক্তফ্রন্ট ও জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া ঘোষণা করেন নাগরিক ঐক্যের আহ্ববায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না।

জাতীয় ঐক্যের দাবিতে বলা হয়েছে, কোটা সংস্কার ও নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী ছাত্র-ছাত্রীসহ সব রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারসহ গ্রেফতারকৃতদের মুক্তি দিতে হবে। এখন থেকে নির্বাচন শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা যাবে না।

এমন দাবির প্রেক্ষিতে বিভিন্ন মহল থেকে প্রশ্ন উঠছে যে, জাতীয় এক্যের কথা বলে ঐক্যে আসা দলগুলো যেসব দাবি করছেন সে দাবি বাস্তবায়ন করতে গেলে দেশে আইন বলে কিছু থাকবে না। আর বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কর্মীদের যেহেতু অপরাধের দায়ে গ্রেফতার করা হয়েছে ফলে বিচারের বাইরে গিয়ে যদি তাদের মুক্তি চাওয়া হয় তবে তা কি জাতীয় ঐক্য বিএনপির পরিশুদ্ধ পরিকল্পনা এবং উদ্দেশ্য হাসিলের নিমিত্তে তৈরি জাল নয়- তা ভেবে দেখার বিষয়।

এমন প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় স্টেট ইউনিভার্সিটির সরকার ও রাজনীতি বিভাগের একজন অধ্যাপক বলেন, জাতীয় ঐক্যের দাবি এবং লক্ষ্য পর্যালোচনা করলে কিছু অসঙ্গতি সামনে চলে আসে। সেগুলোর মধ্যে একটি হচ্ছে, বিএনপিকে নিয়ে জাতীয় ঐক্য হলেও তাতে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে মামলাগুলো নিয়ে এবং খালেদা জিয়ার মুক্তি নিয়ে কোনো কথা বলা হয়নি। এমনকি এমন প্রেক্ষাপটে এই দুজনের পক্ষ থেকে এ নিয়ে কোনো বক্তব্যও আসেনি। ফলে প্রশ্ন আসতেই পারে, এখানে কোনো কৌশল আছে কিনা।

জাতীয় ঐক্যের ঘোষণায় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা যেসব কৌশলের কথা বলছেন তা আরও কিছুটা স্পষ্ট হয়ে ওঠে ঐক্যে আসতে চাওয়া যুক্তফ্রন্টের আহ্বায়ক ডা. এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত না থাকা। জানা গেছে, শেষ মুহূর্তে জাতীয় ঐক্যে ষড়যন্ত্রের গন্ধ পেয়েই তিনি অসুস্থতার অজুহাতে সরে গেছেন।