জাতিসংঘ মহাসচিবের সাক্ষাৎ না পেয়ে ওয়াশিংটনের পথে ফখরুল

 

জাতিসংঘ মহাসচিব এন্তেনিও গুতেরেসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে নিউইয়র্ক এসেছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তবে জাতিসংঘ সদর দফতরে প্রবেশ করেও মহাসচিব এন্তেনিও গুতেরাসের সাক্ষাৎ পাননি বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল।

বিভিন্ন সূত্রের বরাত দিয়ে বিদেশী সংবাদমাধ্যম বলছে, মির্জা ফখরুলের সঙ্গে দেখা করেছেন জাতিসংঘের অর্গানোগ্রামে চতুর্থ লেভেলের কর্মকর্তা সহকারী মহাসচিব মিরোস্লাভ জেনকার।

ফখরুল অনেক আশা নিয়ে জাতিসংঘের মহাসচিবের সাথে আলোচনা করতে যুক্তরাষ্ট্রে এসেছিলেন। কিন্তু তার সে আশার গুড়ে বালি। মির্জা ফখরুলের নিউইয়র্ক মিশন ব্যর্থ হয়েছে। কিন্তু খালি হাতে ফিরতে নারাজ ফখরুল। তাই এখন যাচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে। সেখান থেকে কিছু একটা নিয়েই দেশে ফেরার ইচ্ছা বিএনপির এই মহাসচিবের।

গত মঙ্গলবার রাতে নিউইয়র্কের উদ্দেশে দেশ ছাড়েন মির্জা ফখরুল। ফখরুলের সঙ্গী হন বিএনপির ভাইস প্রেসিডেন্ট আব্দুল আউয়াল মিন্টুর ছেলে ও দলটির নির্বাহী কমিটির সদস্য তাবিথ আউয়াল। আর লন্ডন থেকে এসে যুক্ত হন বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সচিব হুমায়ুন কবির। মির্জা ফখরুলের নিউইয়র্ক মিশনের লক্ষ্য ছিল একটাই ২০১৪ সালের মতো এবারও যেন জাতিসংঘ নির্বাচন তদারকিতে আসে। তবে জাতিসংঘের সহকারী মহাসচিব মিরোস্লাভ জেনকার সঙ্গে বৈঠকে আশাহত হতে হয় ফখরুলকে।

 

জাতিসংঘের সহকারী মহাসচিব ফখরুলকে জানিয়েছেন, বাংলাদেশের নির্বাচন ও অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে এই মুহূর্তে হস্তক্ষেপ করার পরিস্থিতি তাদের নেই। একই সঙ্গে আগামী নির্বাচনে বিএনপিকে অংশ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন জাতিসংঘের সহকারী মহাসচিব।

বিএনপির গোপন সূত্রে জানা গেছে, নিউইয়র্কে ব্যর্থ বিএনপি মহাসচিব দু-এক দিনের মধ্যে ওয়াশিংটন ডিসিতে যাবেন। সেখানে দক্ষিণ পূর্ব এশিয়া বিষয়ক মার্কিন আন্ডার সেক্রেটারির সঙ্গে একটি বৈঠকের চেষ্টা করবেন তিনি। এছাড়া বাংলাদেশ বিষয়ে আলোচিত এমন ক’জন কংগ্রেসম্যানের সঙ্গে দেখা করবেন মির্জা ফখরুল।

একাধিক সূত্র বলছে, এই সময়ে মির্জা ফখরুলের যুক্তরাষ্ট্র মিশন নিয়ে বিএনপির মধ্যে নানা সন্দেহ দেখা দিয়েছে। ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন দলটির অনেক নেতা। মির্জা ফখরুলের ব্যর্থ মিশন তাদের ক্ষোভ নি:সন্দেহে আরও বাড়াবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশ বিষয়ে মার্কিন নীতি ও অবস্থান অনেকাংশেই নিয়ন্ত্রিত হয় ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাস থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো তথ্যের ভিত্তিতে। তাই ওয়াশিংটনে মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে দেখা করে ফখরুল কতোটা সফলতা পাবেন তা নিয়ে সন্দেহ থেকেই যায়।