কামালের ৫ দফা দাবির সাথে নেই বি. চৌধুরী

শহীদ মিনারে অনুমতি না পাওয়ার কথা বলে বিকেল চারটায় রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলন করে ঐক্যের ঘোষণা দেন জাতীয় ঐক্যের নেতৃবৃন্দ। সংবাদ সম্মেলনে নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মান্না সবার পক্ষে ড. কামাল হোসেন স্বাক্ষরিত ৫ দফা দাবি শোনান। কিন্তু সংবাদ সম্মেলনে যুক্তফ্রন্টের অন্তর্ভুক্ত দলের নেতারা উপস্থিত থাকলেও উপস্থিত ছিলেন না যুক্তফ্রন্ট ও বিকল্পধারার সভাপতি ডা. বদরুদ্দোজা চৌধুরী। কিন্তু কেন?

প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে বসে একাধিকবার টেলিফোন করে আ স ম আব্দুর রব বি চৌধুরীকে অনুষ্ঠানে আসার অনুরোধ জানান। তবে বি চৌধুরী সরাসরি অনুষ্ঠানে যোগদান করবেন না বলে তাকে জানিয়ে দেন এবং ৫ দফার সাথে ভিন্নমত হওয়ায় ড. কামালের দফার সাথে তিনি নেই বলেও জানান। উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগ ও বিএনপি জোটের বাইরে তৃতীয় একটি রাজনৈতিক শক্তির উত্থানের লক্ষ্যে বি চৌধুরী, মান্না ও আ স ম রব গঠিত যুক্তফ্রন্টের সঙ্গে সম্প্রতি যুক্ত হয়ে ‘জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া’র ঘোষণা দেন কামাল হোসেন।

পাঁচ দফায় বি চৌধুরীর প্রস্তাবিত ‘রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও সংসদের ক্ষমতা ভারসাম্য’ কথাটি রাখা হয়নি। এ কারণে মূলত বি. চৌধুরী সংবাদ সম্মেলনে যোগদান করেননি।

পাঁচ দফা গুলো হলো:

১. একাদশ সংসদ নির্বাচনে সকলের সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে তফসিল ঘোষণার আগে সংসদ ভেঙে দিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে নির্বাচনকালীন সরকার গঠন করা এবং নির্বাচনকালীন সরকারের দায়িত্ব প্রাপ্তরা নির্বাচনে প্রার্থী না হওয়া;

২. আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের নিয়ে নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন, আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণের পূর্ণ ক্ষমতা ইসির উপর ন্যস্ত করা;

৩. নির্বাচনের এক মাস আগে এবং নির্বাচনের পর ১০ দিন পর্যন্ত মোট ৪০ দিন ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা দিয়ে সেনাবাহিনী মোতায়েন;

৪. কোটা সংস্কার ও নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া ছাত্র ছাত্রীসহ সব রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে আনা মামলা প্রত্যাহার ও তাদের মুক্তি এবং এখন থেকে নির্বাচন শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার না করা;

৫.নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার বন্ধ ও গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ গণমুখী করে সংশোধন।

গোপন সূত্রে জানা গেছে, ড. কামাল হোসেন ও জাতীয় ঐক্যের অন্যান্য নেতারা আক্রমণাত্মকভাবে সরকার বিরোধী কর্মসূচি পালনের পক্ষে। কিন্তু বি. চৌধুরী এবং তার ছেলে মাহী বি. চৌধুরী এতটা আক্রমণাত্মক কর্মসূচিতে রাজি নন। বরং বি. চৌধুরী বিএনপির সঙ্গে দেনদরবারের মাধ্যমে বিএনপির একটি অংশ হয়ে নির্বাচনে যেতে চান। কিন্তু ড. কামাল হোসেন অন্যভাবে কর্মসূচি এগিয়ে নিয়ে যেতে চান, যাতে বি. চৌধুরীর সম্মতি নাই। এ কারণেই জাতীয় ঐক্যের অনুষ্ঠানে যাননি বি. চৌধুরী।