খালেদার মুক্তি আন্দোলনকে ফাঁকিবাজি এবং নাটক বলায় ফখরুলপন্থী নেতার রোষানলে রিজভী

 

নিউজ ডেস্ক: খালেদা জিয়ার চিকিৎসা ও মুক্তির আন্দোলনকে ফাঁকা বুলি বলে আখ্যায়িত করেছেন বিএনপি সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব এবং তারেকপন্থী বিএনপি নেতা রিজভী আহমেদ। খালেদা জিয়ার মুক্তি নিয়ে মহাসচিব মির্জা ফখরুল নিছক লোক দেখানো এবং তারেক রহমানের আনুকূল্য পাওয়ার জন্যই সাজানো নাটক করছেন বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। এসময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত ফখরুলপন্থী নেতাদের প্রতিরোধের মুখে পড়ে হেনস্থার শিকার হন রিজভী আহমেদ। এসময় গণধোলাই থেকে বাঁচতে দৌড়ে পালিয়ে পাশের রুমে ছিটকিনি লাগিয়ে জীবন বাঁচান রিজভী।

নয়া পল্টন বিএনপির পার্টি অফিস সূত্রে জানা যায়, খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসা এবং মুক্তির দাবিতে গত কয়েকদিন সংবাদ মাধ্যমে মির্জা ফখরুলের সরব উপস্থিতি দেখে গা জ্বালায় পড়েন রিজভী। এমনিতেই মির্জা ফখরুলকে দু’চোখে দেখতে পারেন না তিনি। এছাড়া তারেক রহমানের আদেশ অমান্য করে বেগম জিয়ার নির্দেশনা অনুযায়ী দল পরিচালনার জন্য রিজভী আহমেদের চোখের বালিতে পরিণত হয়েছেন মির্জা ফখরুল। রিজভী আহমেদ দলের মহাসচিব হওয়ার জন্য মনোবাসনা নিয়ে বসে আছেন। তারেক রহমানের গ্রিন সিগন্যাল পেলেই দলের দায়িত্ব নিবেন। কিন্তু ম্যাডাম জিয়া অাবার মির্জা ফখরুলকে বেশি বিশ্বাস করেন। তাই মহাসচিব হওয়ার স্বপ্ন অধরাই থেকে যাবে বলে ভয়ের মধ্যে থাকেন রিজভী আহমেদ। রিজভী নিজেকে মহাসচিব হিসেবে একমাত্র যোগ্য ব্যক্তি হিসেবে বিবেচনা করেন। মির্জা ফখরুল আন্দোলন-সংগ্রাম ভয় পান। মিছিল করতে চান না। অথচ কাকডাকা ভোর হলেও দলের হয়ে মিছিল করেন রিজভী আহমেদ।

অন্যদিকে খালেদা জিয়ার মুক্তি বাদ দিয়ে তারেক রহমানের দেশে ফেরার বিষয়ে সরকারের সাথে যোগাযোগ করার নির্দেশনা দিলেও সেই বিষয়ে কান দেন না মির্জা ফখরুল। তারেক বার বার সরকারের সাথে আঁতাত করে দেশে ফেরার ব্যবস্থা করার জন্য তাকে দায়িত্ব দিলেও তিনি তা কানে তোলেন না। তারেক রহমানের ভাষ্য হলো, খালেদা জিয়ার বয়স হয়েছে। তার জেলে থাকা বা বাহিরে থাকা দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নয়। বরং তারেক রহমানের দেশে থাকা বিএনপির জন্য জরুরি। কিন্তু মির্জা ফখরুলরা খালেদা জিয়ার আঁচল ছেড়ে তারেক রহমানের ছায়া অনুসরণ করতে রাজি নন। তাই মির্জা ফখরুলদের উপর চরম বিরক্ত ও ক্ষিপ্ত তারেক রহমান।

এদিকে রিজভী আহমেদরা আবার তারেক রহমানকে বিএনপির মালিক মনে করে তাকে অন্ধভাবে অনুসরণ করেন। তাই স্বাভাবিকভাবে মির্জা ফখরুলকে ঘৃণা করেন রিজভী আহমেদ। তাছাড়া মির্জা ফখরুলের সাম্প্রতিক কার্যক্রমে তারেকসহ রিজভী আহমেদের সন্দেহ সৃষ্টি হয়েছে।

সূত্র বলছে, পার্টি অফিসে মির্জা ফখরুল অনুপস্থিত থাকলে সারাক্ষণ তার অক্ষমতা নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ করতে থাকেন রিজভী। রিজভী মির্জা ফখরুলকে বিএনপির অভিযোগ বিষয়ক সম্পাদক বলেও বিদ্রুপ করেন। তারই অংশ হিসেবে ১০ সেপ্টেম্বর বিকেলে পার্টি অফিসে উপস্থিত বিএনপির দ্বিতীয় ও তৃতীয় সারির নেতাদের সামনে মির্জা ফখরুলের কঠোর সমালোচনা করেন রিজভী। বিএনপি ও মির্জা ফখরুলের করা খালেদা জিয়ার মুক্তি আন্দোলনকে আইওয়াশ ও সাজানো নাটক বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত ধানমন্ডি থানা বিএনপির এক নেতা জানান, রিজভী আহমেদ এদিন বিএনপির দুই ঘন্টার অনশনকে হাস্যকর কমেডি এবং মির্জা ফখরুলের সাজানো নাটক বলে মন্তব্য করে উচ্চস্বরে হাসিতে ফেটে পড়েন। খালেদা জিয়াকে বাদ দিয়ে বরং তারেক রহমানের স্বদেশ ফেরার আন্দোলন করার জন্য নেতাদের বলেন তিনি। মির্জা ফখরুলকে ভাড়াটিয়া গোলাম ও খালেদা জিয়ার বাড়ির কাজের লোক বলেও বিদ্রুপ করেন রিজভী। বিএনপির অধঃপতনের জন্য মির্জা ফখরুলের মত মেরুদণ্ডহীন নেতাদের কাপুরুষতাকেও দায়ী করেন তিনি।

এসময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত মির্জা ফখরুলপন্থী আ: সাত্তার নামের বিএনপির তৃতীয় সারির নেতা রিজভী আহমেদকে লাগামহীন কথাবার্তা না বলার জন্য হুশিয়ার করেন। তা না হলে পরিণতি খারাপ হবে বলেও হুমকি দেন সেই নেতা। এছাড়া রিজভী আহমেদ তাকে মির্জা ফখরুলের পা চাটা গোলাম বলে গালি দিলে পার্টি অফিসের পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে যায়।