বিএনপির একঘণ্টার মানববন্ধনে জোর-জুলুমের অভিযোগ সাধারণ মানুষের

 

নিউজ ডেস্ক: বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে এক ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধনের অনুমতি পেয়ে পরিকলিপ্তভাবে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি তৈরি করার অভিযোগ উঠেছে দলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে। ১০ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিএনপির কর্মীরা সাধারণ মানুষের ওপর জোর-জুলুম করেছে বলেও অভিযোগ করে অনেকেই। ভোগান্তির শিকার হতে হয়েছে অফিস-আদালতগামী মানুষ থেকে শুরু করে শ্রমজীবী মানুষকেও।

জানা গেছে, এ পরিকল্পনা তাদের আগে থেকেই নেয়া। এর মাধ্যমে বিএনপির কর্মীরা সরকারকে বার্তা দিতে চেয়েছে যে, চাইলেই বিএনপির কর্মীরা দেশ অচল করে দিতে পারে। যদিও সেসময় সাধারণ মানুষের ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়ার মুখোমুখি পড়তে হয়েছে বিএনপি নেতাকর্মীদের।
সূত্র জানায়, এক ঘণ্টার মানবন্ধন উপলক্ষ্যে সকাল থেকেই ধীরে ধীরে বিএনপি নেতাকর্মীরা জড়ো হতে থাকে প্রেসক্লাবের সামনে। শুরুর দিকে তারা ভাবনের সামনের মাঠে জড়ো হলেও ধীরে ধীরে তারা প্রধান সড়কে নেমে আসতে শুরু করে। এসময় তাদের স্বেচ্ছাচারিতার শিকার হতে হয় ফুটপাতে দাঁড়িয়ে থাকা বাদাম বিক্রেতা থেকে শুরু করে লেবুপানি বিক্রেতাকেও। রেহাই পায়নি যানবাহনে চলাচলকারী অফিস-আদালতগামী মানুষও।
এ বিষয়ে অভিযোগের সুরে জয়নাল মাঝি নামের একজন বাদাম বিক্রেতা বলেন, আমরা সাধারণ মানুষ। খেঁটে-পড়ে কোনরকম জীবন চালাই। আমাদের উপর ওদের (বিএনপির কর্মীরা) রাগ কেন জানি না। আমাকে কয়েকজন এসে বলে বাদামের গাড়ি নিয়ে চলে যেতে। কারণ জানতে চাইলে ওরা গাড়ি উল্টে দেয়ার হুমকি দেয়। আর বলে তোর সরকারকে (আওয়ামী লীগ) বলিস সব পুড়িয়ে দেব। পারলে যেন কিছু করে। একই ধরণের হেনস্তার শিকার হয়েছেন লেবু পানি বিক্রেতা মো. কামরুল মিয়া।
এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির একজন নেতা বলেন, আগামী দিনে সরকার পতন আন্দোলনের এটি একটি ট্রায়ালমাত্র। আমরা বুঝিয়ে দিতে চাই- আমরা চাইলে অনেক কিছু পারি।
এদিকে সরেজমিনে দেখা গেছে, গণপরিবহণ থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত বেশকিছু গাড়ি আটকে দিয়ে মানববন্ধনরত বিএনপির নেতাকর্মীরা কৃত্রিম যানজট সৃষ্টি করে সরকারকে গালিগালাজ করছে। এ বিষয়ে একজন সিএনজি চালক আব্দুর রহিম বলেন, মানববন্ধনের নামে বিএনপির কর্মীরা যা করছে তা মেনে নেয়া যায় না। ২০১৪ সালে গাড়ি পুড়িয়ে সাধ মেটেনি, পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে, আবার ওই পথেই যাচ্ছে বিএনপি।
মানববন্ধনের নামে বিএনপি নেতাদের এমন আচরণের ক্ষুব্ধ জনতা। তারা বলছে, বাতি নিভে যাওয়ার আগে একটু জোরেই জ্বলে ওঠে। বোঝা যাচ্ছে, তারা আর বেশিদিন নেই। অধঃপতনের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেছে তারা।