অন্তর জ্বালায় ধুঁকছে বিএনপি ও শরীকরা, ড. কামালকে বিষফোঁড়া মনে করছেন অনেকে

নিউজ ডেস্ক: যুক্তফ্রন্টের নেতৃত্বাধীন জোটের সঙ্গে বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য তৈরিতে বিএনপির দৌড়ঝাঁপ ভালো চোখে দেখছে না ২০ দলীয় জোটের অধিকাংশ শরীকরা। যাদেরকে নিয়ে বিএনপি জাতীয় ঐক্য করার চেষ্টা করছে তাদের সঙ্গে জাতীয় ঐক্য করে কোনো লাভ হবে না বলে মনে করেন জোট নেতারা।

জাতীয় ঐক্য প্রচেষ্টা নিয়ে জোটের মধ্যে নানা গুঞ্জন তৈরি হওয়ায় এবং জোটের মধ্যে যাতে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি না হয় এজন্য জোটের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বসার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি। ধারণা করা হচ্ছে ওই বৈঠকেই মুলত জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার অগ্রগতি ও করণীয় নিয়ে আলোচনা হতে পারে। তবে শরীক দলের একাধিক নেতা জানান, এই বৈঠকেই জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া নিয়ে বিএনপি তাদের বক্তব্য তুলে ধরবে।

শরীক নেতাদের মন্তব্যের মধ্যে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জাতীয় ঐক্য প্রশ্নে ছাড় দিতে প্রস্তুত রয়েছে বলে জানান। বলেন কিছু কিছু বিষয়ে ছাড় না দিলে তো ঐক্য হবে না। ভালোর জন্যই ছাড় দিতে হবে।

জোট নেতারা মনে করেন, বিএনপির মত একটি সমন্বয়হীনতায় ভোগা রাজনৈতিক দলের পেছনে না ছুটে তারা যদি নিজের সংগঠনের দিকে খেয়াল করতো তাতে দলটিরই সাংগঠনিকভাবে আরো বেশী শক্তিশালী হতে পারতো। শরীকদলগুলোর কেউ কেউ আবার বলছেন, শরীকদলগুলোকে অবশ্যই মূলায়ন করতে হবে। আর সেটা না করা হলে বিএনপিকে মাশুল গুনতে হবে। অপর দিকে আগামী নির্বাচনে আসন কিংবা দুই বছর ক্ষমতা ভাগাভাগির প্রস্তাবের বিষয়টিকে যুক্তফ্রন্টের নেতাদের বেশী বাড়াবাড়ি বলে মনে করেন জোটের শরীকরা।

বিএনপির অন্যতম শরীক বাংলাদেশ ডেমোক্রেটিক পার্টির চেয়ারম্যান ড. কর্ণেল (অব.) অলি আহমেদ বলেন, জনসমর্থনহীন, জনবিচ্ছিন্ন ব্যক্তিদের নিয়ে কোনো কাজ হবে না। বর্তমানে বিএনপি জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। তাদের সঙ্গে অন্যকেউ জোট করতে চাইলে বুঝে শুনে করা উচিত।

তবে জোটের অপর শরীক লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডাঃ মোস্তাফিজুর রহমান ইরান মনে করেন, বিএনপি জাতীয় ঐক্য গড়ার যে চেষ্টা করছে এটা নৈতিকভাবে সর্মথন জানানো উচিত। কারণ তাদের নেত্রী কারাগার থেকে অন্য একটি মামলায় দলের দ্বিতীয় শীর্ষনেতা তারেক রহমানের বিরুদ্ধে রায়ের আশঙ্কা করছেন। এমন অবস্থায় দলটি চরম সংকটে রয়েছে। এখান থেকে বের হয়ে আসা এবং একটি সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচনের স্বার্থে বৃহত্তর পরিসরে রাজনৈতিক ঐক্য হলে তাতে আমাদের সর্মথন রয়েছে।

বাংলাদেশ ন্যাপের মহাসচিব গোলাম মোস্তফা ভূঁইয়া বলেন, একটি রাজনৈতিক দলের নেতা দুই বছর ক্ষমতা চেয়েছেন। বিএনপি যদি যুক্তফ্রন্টকে দুই বছর সরকার চালানোর সুযোগ দেয় তা তারা দিক। কিন্তু আমার বক্তব্য হচ্ছে, স্বপ্ন দেখতে টাকা লাগে না। মান্না সাহেবরা কোন স্বপ্নে আছে এটা উনারা ভালো জানে।

এক প্রশ্নে জবাবে ন্যাপের এই নেতা বলেন, আমরা মনে করি বিএনপি পুরানো বন্ধুর চেয়ে নতুন বন্ধুর প্রয়োজন। পুরানো বন্ধুর প্রয়োজনীয়তা শেষ হয়ে গেছে অথবা পুরনো বন্ধুদের প্রতি তাদের আস্থা কম।