আওয়ামী লীগের ছাতার নীচে আসছেন আসিফ নজরুল?

 

বিএনপি ঘরানার বুদ্ধিজীবী হিসেবে পরিচিত আসিফ নজরুল। তিনি একজন গবেষক, কলামিস্ট, সুশীল সমাজ কর্মী এবং টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব। বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত আছেন ।

বিএনপির বুদ্ধিজীবী হিসেবে তিনি তাদের কাছে খুবই জনপ্রিয় এবং বিএনপি চেয়ারপারসনসহ সেই দলের প্রায় সকল বড় বড় নেতার সাথেই তার ঘনিষ্ঠতা ও গ্রহণযোগ্যতার সুবাদে বি এন পি সম্পর্কে তার অভিজ্ঞতা ও মন্তব্য গুরুত্ব বহন করে। সেই আসিফ নজরুলের বয়ানে যখন প্রিয় দল সম্পর্কে নেতিবাচক মন্তব্য শোনা যায় তখন তা অষ্টম আশ্চর্যের মতই মনে হয়। কিন্তু এমনটাই ঘটলো।

সম্প্রতি ডিবিসি টিভির টকশোতে আসিফ নজরুল বলেন, আগামী নির্বাচনের বিএনপির চাইতে আওয়ামী লীগ জিতে আসাই দেশের জন্য মঙ্গলজনক হতে পারে। উক্ত টকশোতে বিএনপি ঘরানার এই বুদ্ধিজীবী তার অভিজ্ঞতার আলোকে বিএনপি ও আওয়ামী লীগ সম্পর্কে মন্তব্য করেন।

“আওয়ামী লীগের জনপ্রিয়তা নিয়ে তো আমি প্রশ্ন তুলিনাই, গাধা ছাড়া কেও এমন প্রশ্ন তুলবে না। আওয়ামী লীগ বাংলাদেশে স্বাধীনতায় নেতৃত্ব দানকারী দল, বঙ্গবন্ধুর দল, আওয়ামী লীগ কোনদিন স্বজনপ্রিয় দলে পরিণত হবে না। মনে আছে, নতুন এয়ারপোর্ট নির্মাণের জন্য একটা যায়গা ঠিক করেছিল, খুব শখের একটা প্রকল্প ছিল প্রধানমন্ত্রীর, সামান্য আন্দোলনের পর তা বাদ দিয়ে দিয়েছে।

এটা বিএনপির আন্দোলন না, সেখানে তারা বিন্দুমাত্র কর্ণপাত করতে রাজি না বরং ষড়যন্ত্রকারী বলে আখ্যায়িত করছে।

বিএনপিকে অসংখ্যবার জনসভা করতে দিয়েছে আওয়ামী লীগ, আমার মনে আছে এক বছরে বিএনপি ঢাকাতে তিনবার বড় জনসভা করেছে। শুধু বিএনপিকে না- যেকোন সামাজিক শক্তিকে চলাফেরার অধিকার, সমাবেশের অধিকার দিয়েছে।

সঞ্চালকের উত্থাপিত ২০১২/১৩ সালে বিএনপির সহিংস আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে আসিফ নজরুল বলেন, অবশ্যই আমি মনে করি যে, বিএনপির দায়-দায়িত্ব আছে। আপনারা যে সহিংসতার কথা বলেন তার চেয়ে বড় অপরাধ বিএনপি করেছে। কেয়ারটেকার সরকার তার কনসিস্ট করে বাদ দিয়েছে, যতই খারাপ লাগুক লিগ্যালি তো আনভ্যালিড। যখন প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে প্রস্তাব দেয়া হয়েছিল নির্বাচনকালীন সরকারের এমনকি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাখা হবে।

বিএনপি নেত্রীর সাথে আমাদের প্রধানমন্ত্রী যখন ফোনে কথা বলেছিলেন, তখন আওয়ামী লীগের সাথে যে আচরণ করা হয়েছে এটা শুধু হটকারী না। বাংলাদেশের গণতন্ত্রের ইতিহাস যারা লিখবে তারা বলবে এই গণতন্ত্রকে বিনষ্ট করার পেছনে দায় বিএনপির উপর সকল সময় থাকবে।

আওয়ামী লীগের নেত্রীর দৃঢ়তা, সাহস, আত্মসম্মানবোধ অনেক ক্ষেত্রে বজায় রেখে দেশকে অনেক দুর এগিয়ে নিয়ে যেতে পেরেছে। যদি বিএনপি ফেয়ার নির্বাচনে জিতে আসে তবে বিএনপি আওয়ামী লীগের উপর যে প্রতিশোধ নিবে সেটা আওয়ামী লীগ জিতে আসলে আর থাকবে না।

আওয়ামী লীগের একটা বড় কৌশল ছিল দেশের রাজনীতিতে কয়েকটা বিষয়কে প্রধান বিবেচ্য বিষয় হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা। সেগুলো হচ্ছে- জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে রাজনীতি। আর যুদ্ধাপরাধী এবং জ্বালাও পোড়াও আন্দোলনের বিরুদ্ধে রাজনীতি। এই রাজনীতিতে আওয়ামী লীগ নিজেদের ইতিবাচক একটা শক্তি হিসেবে উপস্থাপন করতে পেরেছে এবং নেতিবাচক শক্তি হিসেবে বিএনপিকে সমালোচিত করতে পেরেছে।

আসিফ নজরুলের হঠাৎ এমন মন্তব্যে সুশীল সমাজে চলছে আলোচনা-সমালোচনার ঝড়, চুলচেরা বিশ্লেষণ। কেও বলছেন, আরিফ নজরুল পদ পরিবর্তন করতে চাইছেন। আবার কেও বলছেন, তিনি আওয়ামী লীগ, বিএনপি দুদলেরই তীব্র সমালোচক-এটা তারই অংশ। তবে তার ঘনিষ্টজনরা বলেছেন, বিএনপির সাথে তার দীর্ঘ দিনের ঘনিষ্টতার সুবাদে তীক্ত অভিজ্ঞতার আলোকেই এমন মন্তব্য, এমন বোধদয়।

তাহলে কি শেষ পর্যন্ত আওয়ামী লীগের ছাতার নীচে আসছেন আসিফ নজরুল?