১০ টাকা কেজি দরে চাল পাচ্ছে হতদরিদ্র মানুষ

দেশের সকল স্তরের মানুষের জীবনমান উন্নয়নের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিয়েছেন নানা রকম পদক্ষেপ। ‘রূপকল্প – ২১’ ও ‘রূপকল্প- ৪১’ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে দারিদ্র্যমুক্ত দেশ গড়ার জন্য সকল স্তরের মানুষের জীবনমান উন্নয়নের জন্য নিরলস কাজ করে যাচ্ছে বর্তমান সরকার।

এক সময় দেশের কিছু শ্রেণীর মানুষ অনাহারে দিন কাটাত। দিনের বেশিরভাগ সময় তাদের থাকতে হতো খাদ্যের সন্ধানে। কাজ করেও যা তারা মাইনে পায় তা পরিবারের সকলের খাদ্য যোগানের জন্য যথেষ্ট নয়। সব মিলিয়ে তাদের অনাহারেই থাকতে হতো। এজন্য ২০১৬ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিরন্ন মানুষের জন্য ১০ টাকা কেজি দরে চাল বিতরণ কর্মসূচি প্রণয়ন করেন।

এই খাদ্যবান্ধব কর্মসূচিতে মোট ৫০ লাখ পরিবারকে এ কর্মসূচির আওতায় চাল দেওয়া হবে। প্রতি মাসে পরিবার প্রতি ৩০ কেজি করে চাল দেওয়া হবে। এতে করে পরিবার প্রতি পাঁচজন হিসেবে প্রায় আড়াই কোটি মানুষ বছরে পাঁচ মাস এ সুবিধা পাচ্ছে। নীতিমালা অনুযায়ী, প্রতি বছর মার্চ-এপ্রিল এবং সেপ্টেম্বর-অক্টোবর ও নভেম্বর- এ পাঁচ মাস ৫০ লাখ হতদরিদ্র পরিবারকে ১০ টাকা কেজি দরে চাল বিক্রি করা হয়। চাল বিক্রির জন্য উপকারভোগী ৫০ লাখ কার্ড প্রদান করা হয়েছে। কার্ডধারী ব্যক্তিদের কাছে প্রতি মাসে ৩০ কেজি করে চাল বিক্রি করা হবে। দেশের ৬৪ জেলার ৫০ লাখ দরিদ্র মানুষ বছরে পাঁচ মাসের জন্য এ কর্মসূচির সুফল পেয়ে আসছেন।

বর্তমানে দেশে ২৮ আগস্ট পর্যন্ত ১৫ লাখ ৮৪ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য মজুদ রয়েছে। এর মধ্যে চাল ১৩ লাখ ৩৪ মেট্রিক টন ও গম ২ লাখ ৫০ মেট্রিক টন। সেপ্টেম্বর, অক্টোবর ও নভেম্বর—তিন মাসে প্রায় সাড়ে ৪ লাখ মেট্রিক টন চাল ১০ টাকা কেজি ধরে বিক্রি করা হবে।

হতদরিদ্র ছাড়া অন্য কোনো স্বচ্ছল ব্যক্তি যাতে এই চাল না পায় সেজন্য রয়েছে কঠোর নীতিমালা। এজন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নেতৃত্বে একটি কমিটি রয়েছে। কমিটিতে রয়েছে জনপ্রতিনিধি। তারাই হতদরিদ্র পরিবারের সংখ্যা ঠিক করে তাদের কার্ড প্রদান করেছে। কার্ডধারীরা নীতিমালা অনুযায়ী চাল পেয়ে থাকেন।

দারিদ্র্যতা দূরীকরণের জন্য সরকার কর্তৃক এরকম আরো অনেক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। যার মাধ্যমে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে দেশের দারিদ্র্যতা দূরীকরণ সম্ভব।