ইভিএম নিয়ে বিএনপির আপত্তির নেপথ্যে

 

বর্তমান যুগ তথ্য প্রযুক্তির যুগ। বর্তমানে সারা বিশ্বজুড়ে নানা সমস্যার সমাধান করা হয় তথ্য প্রযুক্তির সহায়তা নিয়ে। এমনকি ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বর্তমান সরকারের যাত্রা শুরু হয়েছিল। গতানুগতিক নির্বাচন আয়োজনে যে ভোট জালিয়াতি, ভোট গ্রহণ, ভোট বাতিল হওয়া, অতিরিক্ত খরচ ইত্যাদি সমস্যা থেকে উত্তরণের জন্য যাত্রা শুরু হয় ইভিএম বা ইলেকট্রনিক ভোটিং সিস্টেমের।

ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন উন্নত বিশ্বে ব্যবহার হয়ে আসছে আশির দশক থেকেই। এতে ভোট গ্রহণ প্রক্রিয়া যেমন সহজ, তেমনি ফলাফল পাওয়া যায় এক ক্লিকেই। সনাতনী ব্যালট বাক্স এবং কাগজে ছাপা প্রতীকের ব্যালট পেপারের বদলে মেশিনে থাকা পছন্দের প্রতীকের পাশে থাকা বাটন চেপে ভোট দেয়া যায়।

বাংলাদেশে ২০১০ সাল থেকে বিভিন্ন নির্বাচনে নির্দিষ্ট কিছু কেন্দ্রে ব্যবহারের মাধ্যমে এই ইভিএম নিয়ে নানা পরীক্ষা নিরীক্ষা শুরু হয়। ৫ জানুয়ারি, ২০১২ সালে অনুষ্ঠিতব্য কুমিল্লার সিটি কর্পোরেশনের সবগুলো কেন্দ্রে প্রথমবারের মতো ইভিএম পদ্ধতিতে ভোট গ্রহণ হয়। সে সময় বিএনপির মেয়র প্রার্থী মনিরুল হক কুমিল্লার মেয়র নির্বাচিত হন। সর্বশেষ বরিশাল, রাজশাহী ও সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনেও ইভিএম ব্যবহার করেছে নির্বাচন কমিশন।

বর্তমান নির্বাচন কমিশন গত ডিসেম্বরে রংপুরে একটি, ১৫ মে খুলনায় দুটি, ২৬ জুলাই গাজীপুরে ছয়টি এবং ৩০ জুলাই বরিশালে ১১টি আর রাজশাহী ও সিলেটে দুটি করে কেন্দ্রে ভোট নেয়া হয়েছে ইভিএমে। এই ২৪টি কেন্দ্রের কোথাও ভোটে কোনো গোলযোগ বা সমস্যা ধরা পড়েনি। আর ভোটাররাও এই যন্ত্র দিয়ে ভোট প্রদানকে সহজ বলেছে। আর এসব কেন্দ্রের ফলাফলও পাওয়া গেছে আগেভাগে।

গত পাঁচ সিটি নির্বাচনে যে ২৩টি কেন্দ্রে ইভিএম ব্যবহার হয়েছে তার মধ্যে বিএনপি খুলনায় একটি এবং সিলেটের দুটি কেন্দ্রে জয় পেয়েছে।

আগামী জাতীয় নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার বিষয়ে এখনও সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমেদ তিনশ আসনের একশটিতে ইভিএম ব্যবহার নিয়ে ইসির ভাবনার কথা জানান। এ লক্ষ্যে দেড় লাখ যন্ত্র আমদানি হতে পারে। আর এতেই বিএনপির মধ্যে ছড়ায় উদ্বেগ। তাদের ধারণা, এই যন্ত্র দূর থেকে নিয়ন্ত্রণ করা যায় আর ক্ষমতায় থাকায় এই সুবিধা পাবে আওয়ামী লীগ।

এরই মধ্যে বিএনপির পক্ষ থেকে এই উদ্যোগকে ভোট কারচুপির ‘নতুন হাতিয়ার’ বলা হয়েছে। বিএনপি দাবি করছে ইভিএমের মাধ্যমে সহজেই ভোট চুরি করা যায়।

তবে ২০১২ সালে কুমিল্লা সিটি নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী মেয়র নির্বাচিত হলে তখন ইভিএম-এর প্রশংসা করেছিল। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার নিয়ে বিএনপি আপত্তি তুলছে।