বিএনপির সমাবেশে জামায়াতকে পাশে থাকার আহবান, জামায়াতের না

 

১ সেপ্টেম্বর বিএনপির ৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে সমাবেশ করার পরিকল্পনা নিয়েছে দলটি। নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ করার অনুমতিও দিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। সমাবেশকে কেন্দ্র করে বিপুল জনসমাগম করতে চাচ্ছে বিএনপি। তবে বিএনপির দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সঙ্গী জামায়াত সমাবেশে অংশগ্রহণ করছে না।

বিএনপির পক্ষ থেকে সমাবেশে অংশ নিতে আহ্বান জানানো হয়েছিল জামায়াতকে। তবে জামায়াত তাদের আহবানে সাড়া দেয় নি। বেশ আগে থেকেই জামায়াতের সাথে সম্পর্ক খারাপ যাচ্ছে বিএনপির। সর্বশেষ সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে প্রার্থী রাখার ব্যাপারে জামায়াত অনড় থাকায় এ টানাপোড়েন অনেকটা স্পষ্ট হয়েছে।

জামায়াতের শীর্ষ পাঁচ নেতার ফাঁসি কার্যকরের পর জামায়াতের কর্মসূচিতে বিএনপির সমর্থন ছিল না। একে জামায়াতের দলীয় ইস্যু বলে ‘এড়িয়ে যায়’ বিএনপি। খালেদা জিয়ার মামলার রায়কেও বিএনপির দলীয় ইস্যু হিসেবে দেখছে জামায়াত। এজন্য খালেদার মুক্তির আন্দোলনের মাঠে নামতে দেখা যায় নি জামায়াতকে। ২০১৩ ও ২০১৫ সালের ‘আন্দোলনে’ বিএনপিকে ‘সর্বাত্মক সমর্থন’ দিয়ে রাজপথে ছিল জামায়াত। তাদের হিসাবে, এ আন্দোলনে জড়িয়ে তাদের তিন লাখ ৬০ হাজার নেতাকর্মী মামলার আসামী হয়েছেন। শতাধিক নেতাকর্মীর মৃত্যু হয়েছে সংঘর্ষ-সহিংসতায়। আন্দোলনে নামলে আবারও একই অবস্থার মুখোমুখি হওয়ার আশঙ্কায় বিএনপির জন্য ঝুঁকি নিয়ে পথে নামতে আগ্রহী নয় জামায়াত।

গোপন সূত্রে জানা যায়, আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৬৬টি আসন দাবি করেছে জামায়াত। এছাড়া তারা অবমূল্যায়নের অভিযোগ এনেছে বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে। সে কারণে আগেভাগেই সংসদ নির্বাচনের আসন বরাদ্দের ফয়সালা চায় জামায়াত। তবে বিএনপির নেতারা তাদের দাবি মানতে নারাজ।

নাম গোপন রাখা শর্তে জামায়াতের এক নেতা জানায়, বিএনপি জামায়াতকে ১ সেপ্টেম্বরের সমাবেশে থাকার আহবান জানিয়েছে। জামায়াত বিএনপিকে স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছে জামায়াতের কোনো নেতা কর্মী তাদের সমাবেশে যাবে না।

জামায়াতের নেতারা মনে করছে, জামায়াতকে বিএনপি তাদের সঙ্কটের সময় ব্যবহার করেছে, কিন্তু জামায়াতের সঙ্কটের সময়ে বিএনপিকে পাশে থাকতে দেখেনি তারা। বিএনপি তখন নীরব ভূমিকা পালন করেছে। তাই জামায়াত বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সমাবেশে না থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।