বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সমাবেশে করণীয় নিয়ে দ্বন্দ্বে ফখরুল-রিজভী

বিএনপির ৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সমাবেশকে ঘিরে ফখরুল-রিজভী দ্বন্দ্ব আবারও নতুন মাত্রা নিয়েছে। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ওইদিন বিকালে নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ের সামনে জনসভা করতে চায় দলটি। ইতোমধ্যে পহেলা সেপ্টেম্বর রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জনসভা করার জন্য ঢাকা মহানগর পুলিশ অনুমতি দিয়েছে।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে- শনিবার ভোরে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় ও গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে দলীয় পতাকা উত্তোলন। সকাল ১০টায় শেরে বাংলা নগরে দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের কবরে পূস্পমাল্য অর্পণ। ওই দিন বিকেলেই জনসভা করার কথাও রয়েছে।

সমাবেশে নেতাকর্মীদের কি দিকনির্দেশনা দেওয়া হবে তা নিয়ে ফখরুল-‍রিজভী দ্বন্দ্ব চরম রূপ নিয়েছে। একাদশ সংসদ নির্বাচন কাছাকাছি চলে আসায় ফখরুল দলের কর্মসূচিতে পরিবর্তন আনতে চাইছে। সেই কর্মসূচির ধরণ কেমন হবে, তা নিয়ে সমাবেশে আলোচনা করতে চান ফখরুল। ফখরুল সমাবেশে নেতা-কর্মীদের সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি ও দিকনির্দেশনা প্রদান করতে চান দলের পক্ষ থেকে। খালেদা জিয়ার মুক্তির আইনি প্রক্রিয়ার গতিপথ, আগামী দিনে দলের করণীয়, বৃহত্তর নির্বাচনী মোর্চা গঠনসহ অনেক বিষয় বিএনপির সামনে ঝুলন্ত থাকায় মির্জা ফখরুলের সিদ্ধান্তকে অধিকাংশ নেতা সমর্থন করছেন।

অপরদিকে রিজভী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি, ও নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি বলিষ্ঠভাবে তুলে ধরতে চান। রিজভীপন্থী নেতারা জানিয়েছেন, খালেদা জিয়া কারাগারে থাকায় তার মুক্তিই এখন দলটির প্রধান এজেন্ডা। দ্বিতীয় এজেন্ডা নির্বাচন। তাই আন্দোলন করে খালেদার মুক্তি নিশ্চিত করতে হবে।

খালেদা জিয়ার কারাবন্দিত্ব ঘোচাতে বিএনপির আইনজীবীরা আদালতে ছয় মাস ধরে হন্যে হয়ে দৌড়াচ্ছেন। কিন্তু তারা শেষ সীমা খুঁজে পাচ্ছেন না। একটি মামলায় জামিন হলে, অন্য মামলা মুক্তির পথে বাদ সাধছে। একটি-দুটি বাদে সব মামলায় ইতোমধ্যে জামিন পেয়েছেন খালেদা জিয়া।

১ সেপ্টেম্বর বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সমাবেশে করণীয় নিয়ে ভিন্ন মত থাকায় আবারও দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েছেন ফখরুল-রিজভী।