খালেদাকে মুক্ত না করা ফখরুলের নতুন চাল

 

বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া কারাগারে আছেন ছয় মাসের বেশি হলো। খালেদা জিয়া কারাবন্দি হওয়ার পর থেকেই তার দলের নেতা কর্মীরা বারবার বলছেন যে আন্দোলনের  মাধ্যমে তাকে মুক্ত করা হবে। কিন্তু এই বার্তা শুধু মুখেই রয়ে গেছে। কাজে এখনও প্রতিফলিত হয়নি।

খালেদা জিয়া কারাগারে যাওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন দিনক্ষণ নির্ধারণ করে বলা হয়েছে যে এর পরই আন্দোলনের মাধ্যমে তাকে মুক্তি করে আনা হবে। এর ভিতর চলে আসে পৃথিবীর সব থেকে বড়  ও আকর্ষণীয় ইভেন্ট বিশ্বকাপ ফুটবল। তারা তখন বলেন বিশ্বকাপের পর আন্দোলন করা হবে। এর পর চলে আসে ঈদুল ফিতর। তখনও বলা হয় ঈদুল ফিতরের পর। এরকম করতে করতে ঈদুল আজহা শেষ হয়ে জাতীয় নির্বাচনও আসন্ন। এখন তাদের নতুন টার্গেট আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের আগে খালেদাকে মুক্ত করা।

বারবার খালেদার মুক্তির আন্দোলনের ডাক দিয়ে আন্দোলনের জন্য কোনো নেতা কর্মী পাচ্ছে না বিএনপি। কারণ বিএনপির এমন ভরাডুবি, দলের অন্তঃকোন্দল, রাষ্ট্রবিরোধী বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের জন্য অনেক নেতাকর্মীরাই রয়েছে দলের থেকে অনেক দূরে। কর্মীশূন্য হওয়ায় আন্দোলনের জন্য নেতাকর্মীই পাচ্ছেনা বিএনপি। অপরদিকে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নিজে আন্দোলনের আশ্বাস দিয়ে তেমন কোনো উদ্যোগ নিতে তাকে দেখা যাচ্ছে না।

বিএনপির চেয়ারপারসন রয়েছেন কারাগারে। তার অবর্তমানে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক জিয়া। কিন্তু তিনিও রয়েছেন দেশের থেকে অনেক দূরে। মামলার ভার মাথায় নিয়ে তিনি দেশে আসতে পারছেন না। এদিকে দলের অবস্থা ভঙ্গুর হয়ে পড়েছে। বিএনপির সিনিয়র নেতারা নিজেদের ভিতর আঁটছেন বিভিন্ন ফন্দি। যতই মুখে গণমাধ্যমের সামনে বলা হোক খালেদাকে মুক্ত করা হবে কিন্তু কাজের কাজ তারা কিছুই করবে না। কারণ তাদেরকে পেয়ে বসেছে ক্ষমতার বিষাক্ত লোভ। খালেদাকে কারাগারে এবং তারেককে লন্ডনে রেখেই নিজেই চেয়ারপারসন হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এক বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, খালেদাকে ছাড়াই নির্বাচনে যোগ দিতে চাচ্ছে মির্জা ফখরুল। এ থেকে বুঝা যায় খালেদার মুক্তির আন্দোলনের নামে মাঠ গরম না করে ক্ষমতা নিজের করে নিতে চাইছে ফখরুল।