ইইউ এর পর্যবেক্ষণ: ১৪ দলের সাথে আঁতাত করে চলছেন বিএনপির অধিকাংশ নেতা

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সরগরম হয়ে উঠেছে বাংলাদেশের রাজনীতির মাঠ। প্রায় প্রতিদিনই নতুন জোট গঠন ও ভাঙ্গনের খবর ভেসে বেড়াচ্ছে সংবাদ মাধ্যমে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের বিরুদ্ধে শোনা যাচ্ছে সরকার দলীয় জোটের সাথে আঁতাত করে চলার। ফলে বর্তমানে বাংলাদেশের রাজনীতিতে আগে থেকে কোনো কিছু বুঝে উঠা কঠিন হয়ে পড়েছে।

চলতি বছরের গত ফেব্রুয়ারি মাসে রোহিঙ্গা সঙ্কট পর্যবেক্ষণ করতে আসে ইউরোপীয় ইউনিয়নের একটি প্রতিনিধি দল। তখন বিএনপির পক্ষ থেকে মির্জা ফখরুলের নেতৃত্বে একটি দল ইইউ এর প্রতিনিধি দলের সাথে সাক্ষাত করে। ওই সাক্ষাতে ইইউ এর প্রতিনিধি দলের কাছে সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরণের অভিযোগ তুলে ধরে বিএনপি। এরপর থেকে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে আসছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের একটি পর্যবেক্ষক দল ।  সম্প্রতি তাদের পর্যবেক্ষণের উপর ভিত্তি করে বিভিন্ন তথ্য উঠে এসেছে বিভিন্ন গণমাধ্যমে।

গণমাধ্যম সূত্রে জানা যায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী বিএনপির অধিকাংশ নেতারাই  ১৪দলীয় জোটের সাথে আঁতাত করে চলছে। এছাড়া দলের চেয়ারপারসন প্রায় ৬ মাস ধরে কারাগারে থাকা স্বত্বেও বিএনপির মাঠ পর্যায়ে আন্দোলন জোরদার করতে না পারার কারণ হিসেবেও ১৪ দলীয় জোটের সাথে বিএনপির একাধিক সিনিয়র নেতাদের আঁতাতকেই দায়ী মনে করেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের পর্যবেক্ষক দল। তাদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী বিএনপির একাধিক সিনিয়র নেতা সরকারের রোষানল থেকে বাঁচতেই রাজনৈতিকভাবে আঁতাতের পথ বেঁচে নিয়েছেন। ফলশ্রুতিতে কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত সব স্তরেই প্রায় ভেঙ্গে পড়েছে বিএনপির সাংগঠনিক ভিত্তি। এতে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রাজনীতির সমীকরণ বুঝা দুঃসাধ্য হয়ে পড়েছে। শুধু তাই নয় এই অবস্থা চলতে থাকলে  বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিএনপির টিকে থাকা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পর্যবেক্ষক দলটি।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় দণ্ডিত হয়ে দলের চেয়ারপারসন কারাবাস করছেন। দলের আরেক প্রধান কর্ণধার ও বর্তমানে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক জিয়া হত্যা দুর্নীতি সহ একাধিক মামলায় দণ্ডিত হয়ে লন্ডনে পলাতক আছেন প্রায় ১০ বছর সময় ধরে। এমনিতেই চরম দুঃসময়ের ভেতর দিয়ে যাচ্ছে বিএনপি। এমতাবস্থায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের এই পর্যবেক্ষণ রিপোর্টে বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিএনপির টিকে থাকা না থাকা নিয়েই সন্দেহ দেখা দিয়েছে, এমনটাই মনে করেন একাধিক রাজনৈতিক বিশ্লেষক।