জাতীয় ঐক্যে সাড়া না পেয়ে নীরব কামাল ও বি. চৌধুরী

২০১৭ সালে দুবার জাতীয় ঐক্যের ডাক দেওয়ার পর পঞ্চমবারের মতো জাতীয় ঐক্যমত প্রতিষ্ঠায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়েছেন বিকল্প ধারা বাংলাদেশ- এর সভাপতি অধ্যাপক ডা. এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন। আর এদের উদ্যোগের ফলেই আবির্ভাব ঘটে ‘যুক্তফ্রন্ট’ নামক আনকোরা এক জোটের।

বিএনপি এই জাতীয় ঐক্যকে সমর্থন ও পাশে থাকার ইচ্ছা পোষণ করেছিল। দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর যুক্তফ্রন্টের বিভিন্ন সভায় উপস্থিত হয়ে একথা নিশ্চিত করেছিলেন।

তবে জাতীয় ঐক্য গঠনে প্রত্যাশিত সাড়া দিচ্ছে না বিএনপি নেতারা। অনেক দিন থেকে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ শীর্ষস্থানীয় নেতারা নির্দলীয় সরকারের অধীনে একটি অবাধ এবং গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবিতে জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠার কথা বলে আসছেন। বেগম খালেদা জিয়া জেলে যাওয়ার পর তারা এই তৎপরতা আরো বাড়িয়েছেন। এখন প্রায় প্রতিদিনই বিভিন্ন অনুষ্ঠানে দলটির নেতারা জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠার কথা বললেও ঐক্য প্রতিষ্ঠার কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।

বিএনপির এই জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠার ডাকে সাড়া দিচ্ছে না ২০ দলীয় জোটের কোনো দল। বিএনপির সঙ্গে স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াতে ইসলামীর ‘সখ্যের’ কারণেই বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা তাদের ডাকে সাড়া দিচ্ছেন না। তবে এক্ষেত্রে বাধা শুধু জামায়াতে ইসলামীই নয়, অতীতে বিএনপির দুর্নীতি, দুঃশাসন ও সাম্প্রদায়িক রাজনীতির কারণেও উদারপন্থি রাজনৈতিক দলসমূহ বিএনপির সঙ্গে জাতীয় ঐক্য গঠনে আগ্রহী নয়।

বিএনপিকে পাশে পেয়ে আশায় বুক বেঁধেছিল জাতীয় ঐক্যের নেতারা। শেষ মুহুর্তে বিএনপির কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া না পেয়ে হতাশ হয়ে পড়েছেন যুক্তফ্রন্টের নেতারা।

অপরদিকে যুক্তফ্রন্টের নেতৃত্ব নিয়ে ড. কামাল ও বি. চৌধুরীর দ্বন্দ্বের কারণে জাতীয় ঐক্যের ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চিত। জাতীয় ঐক্য নিয়ে কেউ মুখ খুলছেন না। বিএনপি প্রথম দিকে তাদের যে আশার আলো দেখিয়েছিল ড. কামাল ও বি. চৌধুরী এখন তা আর দেখতে পাচ্ছেন না। তাই জাতীয় ঐক্যে বিএনপির সাড়া না পেয়ে নীরব কামাল ও বি. চৌধুরী।