ঔষধ উৎপাদন ও রফতানিতে শীর্ষ অবস্থান বাংলাদেশের

বর্তমানে দেশে উদীয়মান শিল্প ঔষধ। দেশে পোশাক শিল্পের পরই এই ঔষধ শিল্পের অবস্থান। পঞ্চাশের  দশকের শুরু থেকে দেশে এই ঔষধ শিল্পের যাত্রা শুরু হয়। যদিও তখন মোট চাহিদার ২০ভাগ  পূরণ করতে সক্ষম ছিল নতুন বাংলাদেশ। দেশের মানুষের জন্য ৮০ ভাগ ঔষধের চাহিদা নির্ভর করতে হতো বৈদেশিক আমদানির ওপর। সেই দেশ আজ দেশের মানুষের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও অত্যন্ত সুনামের সাথে ঔষধ করছে ঔষধ।

ঔষধ রফতানিকারক ৪৮টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ রয়েছে বর্তমানে শীর্ষ স্থানে। ঔষধ উৎপাদনের জন্য বর্তমানে দেশে কাজ করে যাচ্ছে দুই শতাধিক ঔষধ উৎপাদনকারী কোম্পানি। এসব কোম্পানিতে প্রতি বছর ২৪ হাজার ব্র্যান্ডের ঔষধ উৎপাদিত হয়ে থাকে। এই ঔষধ উৎপাদনের জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে দুই লক্ষাধিক কর্মী। বর্তমানে ১৬০টি দেশে বাংলাদেশের তৈরী ঔষধ রফতানি করা হচ্ছে। ঔষধ রফতানি কয়েকদিন পর দেশের পোশাক রফতানি খাতকে ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করছেন  এ শিল্পের সাথে সংশ্লিষ্ট কর্মীগণ। বিগত পাঁচ বছরে এখাতে রফতানি বেড়েছে দ্বিগুণ।

বাংলাদেশ রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্যানুযায়ী জানা যায়, দেশের উৎপাদিত ঔষধ সব থেকে বেশি রফতানি হচ্ছে মিয়ানমারে। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে শ্রীলংকা। দেশে বিপুল পরিমাণ ঔষধ উৎপাদন করা হলেও ঔষধ তৈরির কাঁচামাল এখনো আমদানি করতে হয়। এর ফলে খরচ কিছুটা বেশি হয়। ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের পরিচালক এ বিষয়ে জানান, আগামী কয়েক বছরের মধ্যে দেশের মাটিতেই কাঁচামাল তৈরী করা সম্ভব। এর ফলে ঔষধ উৎপাদনের খরচও কমবে। খরচ কমার ফলে ঔষধ উৎপাদন আরও বেশি বেড়ে যাবে। উৎপাদন বেড়ে যাওয়ার ফলে বর্তমানের তুলনায় আরো বেশি ঔষধ রফতানি করতে সক্ষম হবে বাংলাদেশ। বর্তমানে ঔষধ রফতানিতে দেশের শীর্ষ কোম্পানি বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস।

বাংলাদেশ পুরো বিশ্বকে কম মূল্যে প্যারাসিটামল তৈরী করে চমক লাগিয়ে দিয়েছে। শুধু তাই নয় হৃদরোগের জন্য অনেক দুর্লভ ঔষধ তৈরী করে তা বিদেশেও রফতানি করছে দেশ। একটি দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য ঔষধ শিল্প যুগান্তকারী অবদান রাখছে। পোশাক শিল্পের সাথে তাল মিলিয়ে এগিয়ে চলছে দেশের ঔষধ শিল্প। বর্তমান সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় এই ঔষধ শিল্প এগিয়ে যাবে বহুদূর- এই আশা  সংশ্লিষ্ট সকলের।