সরকারের সাথে সমঝোতা করেছেন ফখরুল?

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুলরের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের সঙ্গে গোপন আতাঁতের অভিযোগ উঠেছে খোদ বিএনপির নেতৃবৃন্দের মধ্যে। বিএনপির যেকোনো গোপন বৈঠকের তথ্য ফাঁস হয়ে যাওয়া নিয়ে অনেক আগে থেকেই ফিসফাস ছিলো দলটির বিভিন্ন মহলে। সন্দেহে থাকা নেতা দলের শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তি হওয়ায় এতোদিন এ ব্যাপারে কেউ মুখ খুলেননি ।

দলীয় কোন্দল ও বিভ্রান্তি সৃষ্টি, সরাসরি সরকারের পরামর্শেই বিএনপি চালানো, বিশেষ ফোন পেলে নেতাকর্মী থেকে দূরে গিয়ে কথা বলা,  সরকারের উচ্চ পর্যায়ের লোকদের সাথে গোপন বৈঠক থেকে শুরু করে দলের অনেক সিনিয়র নেতাদের মামলার তুলনায় তার মামলার অস্বাভাবিক ধীরগতিসহ বিবিধ অভিযোগে তিনি সর্বোচ্চ ধরাশয়ী নেতা হিসেবে দলের অভ্যন্তরে সমালোচিত। এমনকি বলা হচ্ছে তার পরামর্শেই দলে তার বিরোধিতাকারীদের গ্রেফতার করা হয়েছে।

জন্মের পর থেকে এর আগে কখনোই এমন রাজনৈতিক সংকটে পড়েনি দেশের অন্যতম এই রাজনৈতিক দলটি। বারবার রাজপথে আন্দোলনের ঘোষনা দিয়ে দলের কর্মীদের মাঠে নামালেও শীর্ষস্থানীয় নেতারা কেউই তেমনভাবে সক্রিয় হননি এখন পর্যন্ত। রাজনৈতিক জীবনের শেষ সময়ে এসে নিজের ডুবতি ক্যারিয়ার বাঁচাতে রাজপথে নেমে সরকারের রোষানলে পড়ার চেয়ে গোপনে মিলমিশ করে চলাকেই বেছে নিয়েছেন ফখরুল, এমনটাই মনে করেন বিএনপির বেশিরভাগ নেতাকর্মী।

দলের সিনিয়র নেতারা মনে করেন, যেহেতু খালেদা জিয়া কারাগারে এবং তারেক রহমান লন্ডনে পলাতক সেহেতু তারা নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করতে পারবে না। তারেক খালেদার অনুপস্থিতির কারনে দলের নেতৃত্ব চলে যাবে মির্জা ফখরুলের কাছে।  আর এই সুযোগে মির্জা ফখরুল সরকারের সাথে সমঝোতা করে তার ব্যক্তিগত উদ্দেশ্য হাসিল করতে চাচ্ছে।

ফখরুলের বিভিন্ন বক্তব্যে সরকারের পক্ষে কথা বলার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। তাই তাকে প্রতি পদক্ষেপে তারেক রহমান স্পষ্ট করে বুঝিয়ে দিচ্ছেন যে সে একজন বিশ্বাসঘাতক।

এমন অবস্থায় বিএনপির নির্বাচনে অংশগ্রহণ এবং পরিকল্পনা নিয়ে যতটা তৎপর থাকার কথা ছিলো তার সিকিভাগও হচ্ছেনা বলেই মনে করেন বিএনপির বেশিরভাগ নেতাকর্মী। নির্বাচনের ছয়মাস আগে আটঘাট বেধে মাঠে নামার কথা শোনা গেলেও শেষ সময়ে এসে মাঠে কতটা সুবিধা করা যাবে তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে খোদ বিএনপির অনেক নেতাদের মধ্যেই।

বিএনপির এমন পরিস্থিতি দেখে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন হয়তো সরকারের সাথে সমঝোতা করেছেন ফখরুল।