সংশোধিত হচ্ছে আরপিও, আতঙ্কে বিএনপি

বাংলাদেশের নির্বাচন পরিচালিত হয় গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) ১৯৭২ অনুযায়ী। এই আদেশের কিছু কিছু ধারা সংবিধানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। সেই বিবেচনা থেকে আরপিও সংশোধনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদের ১(ঘ) ধারার বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি ‘নৈতিক স্খলনজনিত কোনো ফৌজদারী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হইয়া নুন্যতম দুই বৎসরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন এবং তাঁহার মুক্তিলাভের পর পাঁচ বৎসরকাল অতিবাহিত না হইয়া থাকে’ তবে তিনি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য অযোগ্য বিবেচিত হবেন। কিন্তু ৭২ এর আরপিওতে রাজনৈতিক দলগুলোর নেতৃত্বের ক্ষেত্রে দুর্নীতিবাজদের রাখা না রাখার ক্ষেত্রে সুষ্পষ্ট কোনো বক্তব্য নেই। এই সুষ্পষ্ট কোনো বক্তব্য না থাকার কারণে কোনো রাজনৈতিক দলের নেতৃত্বে একজন দুর্নীতিবাজ ব্যক্তি বা একাধিক দুর্নীতিবাজ ব্যক্তি আসতে পারেন। আর নেতৃত্বে আসার পর সেই দল যদি নির্বাচনে জয়লাভ করে তাহলে একটি সাংবিধানিক সংকট তৈরি হবে। এই বিবেচনায় নির্বাচন কমিশন মনে করেছে, সংসদ সদস্য নির্বাচনের ক্ষেত্রে সংবিধানের সঙ্গে আরপিওকে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা দরকার। এজন্য আরপিওতে সংশোধন আনা হচ্ছে, কোনো রাজনৈতিক দলের নেতৃত্বে থাকতে হলে তাঁকে সংবিধান অনুযায়ী যোগ্য বিবেচিত হতে হবে। এজন্য কোনো রাজনৈতিক দলে দণ্ডিত দুর্নীতিবাজ, যার বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে এবং যিনি সংসদ সদস্য পদে নির্বাচিত হওয়ার অযোগ্য, তিনি কোনো নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের নেতৃত্বে থাকতে পারবেন না। যদি তিনি কোনো রাজনৈতিক দলের নেতৃত্বে থাকেন তবে সেই নেতৃত্ব বাতিল বলে বিবেচিত হবে।

খালেদা জিয়া গ্রেপ্তার হওয়ার আগে বিএনপি তাদের স্থায়ী কমিটির কোনো বৈঠক ছাড়াই দলের গঠনতন্ত্রের ৭ এর সব উপধারা বিলুপ্ত করে। বিএনপির গঠনতন্ত্রের ৭ ধারায় ‘কমিটির সদস্য পদের অযোগ্যতা` শিরোনামে বলা ছিল, `নিন্মোক্ত ব্যক্তিগণ জাতীয় কাউন্সিল, জাতীয় নির্বাহী কমিটি, জাতীয় স্থায়ী কমিটি বা যেকোনো পর্যায়ের যেকোনো নির্বাহী কমিটির সদস্য পদের কিংবা জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের প্রার্থী পদের অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন।’ তারা হলেন (ক) ১৯৭২ সালের রাষ্ট্রপতির আদেশ নম্বর ৮ এর বলে দণ্ডিত ব্যক্তি, (খ) দেউলিয়া, (গ) উন্মাদ বলে প্রমাণিত ব্যক্তি, (ঘ) সমাজে দুর্নীতিপরায়ণ বা কুখ্যাত বলে পরিচিত দেখা যাচ্ছে, খালেদা জিয়া এবং তারেক জিয়া এখনো বিএনপির নেতৃত্বে। এখন আরপিও সংশোধন করে, আদালত কর্তৃক দণ্ডিত কোনো ব্যক্তিকে যদি সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য অযোগ্য বিবেচনা করা হয়, তাহলে তিনি একই ভাবে কোনো রাজনৈতিক দলের নেতৃত্ব প্রদানের জন্য অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন।

তাহলে আরপিও সংশোধন হলে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অযোগ্য বলে বিবেচিত হবে এবং আইন অনুযায়ী কোনো রাজনৈতিক দলের নেতৃত্বের আসনেও থাকতে পারবেন না তারা।

এ কারণেই আরপিও সংশোধন বিএনপির জন্য আতঙ্কের কারণ।