ফখরুলের সাথে খালেদার সাক্ষাৎ, আন্দোলনে ব্যর্থ হওয়ায় ফখরুলকে খালেদার তিরস্কার

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে কারাগারে গিয়ে দেখা করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ২৫ আগস্ট শনিবার বিকাল চারটায় কারাগারে প্রবেশ করেন তিনি। প্রায় এক ঘণ্টা তিনি সেখানে অবস্থান করেন। কথাবার্তার এক পর্যায়ে খালেদার মুক্তি আন্দোলনের কথা উঠলে ফখরুলের উপর কিছুটা বিরক্তি ভাব প্রকাশ করেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে রাজপথে কঠোর আন্দোলনের কথা ফখরুলের মুখ থেকে প্রথমদিকে শোনা গেলেও সে আন্দোলনের ছিটে-ফোঁটা চোখে পড়েনি কারো। নেতারা যেটুকু না বললেই নয়, সেটুকুই বলছেন। বেগম জিয়ার মুক্তির আশা ছেড়ে দিয়েছেন নেতা-কর্মীরা। সবাই এখন যার যার মতো ব্যস্ত। যদিও বিএনপির নেতৃবৃন্দ বলছেন, রাজপথের আন্দোলনের মাধ্যমেই বেগম জিয়াকে মুক্ত করে আনা হবে। কিন্তু আন্দোলনের কোনো আলামত এখন পর্যন্ত দেখা যায়নি।

দলের মহাসচিব হয়ে ফখরুল চেয়ারপারসনের মুক্তির আন্দোলনকে জোরদার করতে পারেনি। আন্দোলনের প্রতি অনেকটা অনীহাই প্রকাশ পেয়েছে ফখরুলের কর্মকান্ডে। নেতা-কর্মীদের সংগঠিত করে দলের চেয়ারপারসনের মুক্তির আন্দোলনকে জোরদার করার কাজ দলের মহাসচিবের উপরই বর্তায়। কিন্তু আন্দোলন করতে ব্যর্থ হওয়ার কারণে কারাগারে খালেদার সাথে দেখা করতে গেলে খালেদার রোষানলে পড়েন ফখরুল।

উল্লেখ, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টে দুর্নীতি মামলায় সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীকে গত ৮ ফেব্রুয়ারি পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন বিচারিক আদালত। এরপর পাঁচ বছরের দণ্ডের বিরুদ্ধে আপিল করে জামিন আবেদন করলে খালেদা জিয়াকে ১২ মার্চ চার মাসের জামিন দেন হাইকোর্ট। এর বিরুদ্ধে দুদক ও রাষ্ট্রপক্ষের আপিলের পর গত ১৬ মে জামিন বহাল রেখে ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে আপিল নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়েছিলেন আদালত। পরে আবারও খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা সময় আবেদন করলে আগামী ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত সময় বৃদ্ধি করেছেন আপিল বিভাগ। এ মামলায় অপর আসামি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, মাগুরার সাবেক এমপি কাজী সালিমুল হক কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, ড. কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও মমিনুর রহমানকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড দেন আদালত।

দলের মহাসচিব হিসেবে খালেদার মুক্তি আন্দোলন সহ সরকার পতনের আন্দোলনের ব্যর্থতার দায় ফখরুলকে নিতে হবে বলে খালেদা তাকে তিরস্কার করেন বলেও জানা যায় দলীয় সূত্রে।