রাজনীতি থেকে স্বেচ্ছা অবসরে যাচ্ছেন খালেদা?

 

৮ ফেব্রুয়ারি বেগম খালেদা জিয়াকে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়। ঢাকার ৫ নম্বর বিশেষ জজ আদালত এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার পরপরই বেগম খালেদা জিয়াকে আদালত থেকে গ্রেফতার করে পুরান ঢাকার সাবেক কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। তিনি এখন কারাগারে আছেন।

খালেদা জিয়া জন্মগ্রহণ করেন ১৯৪৬ সালে। হিসাব অনুযায়ী, ২০১৮ সালে তার বয়স ৭২ বছর। বয়সের ভারে শরীরের উপর অতিরিক্ত চাপ নিতে পারছেন না তিনি। ফলে অবসরে যাচ্ছেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।

অপরদিকে দুর্নীতির দায়ে কারাগারে অবস্থানরত খালেদা জিয়া হাল ছেড়ে দিয়েছেন। এখন আর তার আগের মতো জৌলুস নেই। জামায়াতের উপর ভর করে এক সময়ে ক্ষমতায় আসে বিএনপি। সে সময় লুটপাটেও চ্যাম্পিয়ন হয় বাংলাদেশ। কিন্তু এখন বাংলার মানুষ এসব বোঝে। তাই বিএনপি ক্রান্তিলগ্নেও জনগণের সমর্থন পাচ্ছে না।

নেতাকর্মীরা খালেদার মুক্তির আন্দোলনের কথা মুখে বললেও মাঠে নামেনি কেউ। এ কারণে খালেদা অনেকটাই মনক্ষুণ্ণ দলের প্রতি।

বিএনপির দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছেন, খালেদা জিয়া অবসর নিলে খুশিই হয়েছেন তারেক রহমান। বর্তমানে তারেক রহমান বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসনের দায়িত্বে রয়েছেন, ম্যাডাম অবসরে গেলে পৈতৃক সূত্রে দলের প্রধান হবেন তারেক রহমান। ক্ষমতা নিয়ে তারেক রহমান ও মির্জা ফখরুলের মধ্যে টানাপোড়েন দেখা দিয়েছে। তাদের অবস্থা দেখে মনে হয় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া এখন আর বিএনপির সম্পদ নয় বরং বোঝা।

শনিবার বিকাল ৪টায় পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডের কারাগারে খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যান দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

ফখরুল বলেন, ‘খালেদা জিয়ার সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক বা সাংগঠনিক আলাপ হয়নি। তিনি বর্তমানে অসুস্থ, তার শারীরিক অবস্থার খোঁজ-খবর নিয়েছি। তার মনোবল শক্ত, তিনি দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন।‘

মির্জা ফখরুলের কথায় বুঝা যাচ্ছে- খালেদা জিয়া এখন রাজনৈতিক বা সাংগঠনিক বিষয় নিয়ে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। বয়সের কারণে খালেদা অনেক সময়ই সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না। দলে যে তার অবস্থান শূণ্য হয়ে যাচ্ছে তা তিনি বুঝতে পেরেছেন। এই জন্যেই কি রাজনীতি থেকে স্বেচ্ছা অবসরে যাচ্ছেন খালেদা?