আবাসিক ভবন পাচ্ছে পরিচ্ছন্ন কর্মীরা

ঘনবসতি পূর্ণ দেশের তালিকায় জাতিসংঘের এক পরিসংখ্যানে বাংলাদেশের ঢাকা শহরের স্থান ১১তম (৬ জানুয়ারি, ২০১৭)। জীবিকার তাগিদে শহরমুখী হচ্ছে মানুষ। সেই সাথে বাড়ছে মানুষ। শহরের আয়তনের তুলনায় বাসযোগ্য মানুষের পরিমাণে অনেক বেশি বেড়ে যাওয়ায় প্রতিনিয়ত অপরিচ্ছন্ন হচ্ছে নগরী। একটি ঘরে সদস্য সংখ্যা বেশি হলে যেমন পরিচ্ছন্ন করা প্রতিদিনের একটি নিয়ম মাফিক কাজ তেমনি জনবহুল এই শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখা একটি নিয়ম মাফিক কাজ। আর এই কাজ করে আসছে শহরের দুই সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্ন কর্মীরা।

ময়লা-আবর্জনা আর দুর্গন্ধ যা দেখলে সবাই দূরে চলে যায়। কিন্তু পরিচ্ছন্ন কর্মীদের দিন কাটে এই দুর্গন্ধযুক্ত ময়লাকে পরিষ্কার করে। তারা আমাদেরকে একটি বাসযোগ্য নগরী উপহার দেয়ার জন্য বেছে নিয়েছে স্বাস্থ্য ঝুঁকির একটি কাজ। এমনকি অনেকের বসবাসও খুব অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে। সব পরিচ্ছন্ন কর্মীরা যাতে ভালো পরিবেশে বসবাস করতে পারেন, সেজন্য দুই সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে নির্মিত হচ্ছে আবাসিক ভবন।

বর্তমানে শহরে প্রায় সাড়ে সাত হাজার পরিচ্ছন্ন কর্মী রয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় বাসাবাড়ি থেকে ময়লা নিয়ে নির্দিষ্ট ভাগাড়ে পৌঁছে দেয়ার জন্য রয়েছে আরও প্রায় চার হাজার কর্মী। তারা এই স্বাস্থ্য ঝুঁকির কাজ বেছে নিয়েছে দেখেই আজ আমরা দুর্গন্ধমুক্ত শহর পাচ্ছি। যদিও দীর্ঘদিন কাজ করার ফলে অনেকে আক্রান্ত হচ্ছেন ক্যান্সার, অ্যাজমা ও বক্ষব্যাধিসহ বিভিন্ন জটিল রোগে। তাদের বসবাসের জন্য, একটি স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য আবাসিক ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

দক্ষিণের মেয়র সাঈদ খোকন বলেছেন, পরিচ্ছন্ন কর্মীদের জন্য ধলপুর, লালবাগ ও গণকটুলীতে ছয়তলা বিশিষ্ট ৬টি ক্লিনার কলোনি উদ্বোধন করা হয়েছে। এছাড়া গণকটুলিতে আরও ৬টি, মিরানজল্লা ক্লিনার কলোনিতে ৩টি এবং ধলপুরে ২টি ছয়তলা ভবন নির্মাণের কার্যক্রম চলমান আছে। তাদের জন্য ইতোমধ্যে কল্যাণ তহবিল গঠন করা হয়েছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর কর্তৃক ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্ন কর্মী নিবাস নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় ১৩টি দশতলা বিশিষ্ট ভবনে সর্বমোট ১২১৮টি ফ্ল্যাট নির্মাণের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্যানেল মেয়র ওসমান গণি বলেন, গাবতলী সিটি পল্লীতে পরিচ্ছন্ন কর্মীদের জন্য বহুতল বিশিষ্ট আবাসিক ভবন নির্মাণ প্রকল্পের মাধ্যমে উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ৭৮৪ জন পরিচ্ছন্ন কর্মীর জন্য ৪টি ১৫ তলা আবাসিক ভবন নির্মাণ ও তাদের সন্তানদের জন্য একটি স্কুল নির্মাণ করা হবে।

যারা নিজেদের জীবনকে ঝুঁকিতে ফেলে আমাদের এই নগরী পরিষ্কার রাখছে তাদের জন্য স্বাস্থ্যকর বাসস্থান নির্মাণের জন্য এগিয়ে এসেছে বর্তমান সরকার। চলতি বছরের  বাজেটে পরিচ্ছন্ন কর্মীদের  জীবনমান উন্নয়নের জন্য নির্দিষ্ট বরাদ্দ রাখা হয়েছিল। সেই বরাদ্দের মাধ্যমে নির্মাণ করা হচ্ছে তাদের জন্য বাসস্থান।