হঠাৎ চামড়ার বাজারে ধস নামার নেপথ্যে

গার্মেন্টস খাতের পর দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনৈতিক খাত চামড়া খাত। পরিকল্পিতভাবে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে দেশের এই বৃহত্তম অর্থনৈতিক খাতকে ধ্বংস করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে একটি মহল।

বাংলাদেশে যে পরিমাণ চামড়া সংগ্রহ করা হয় তার সিংহভাগ আসে কোরবানি ঈদের সময়। গত পাঁচ বছরে চামড়ার দাম কমেছে গড়ে ৪০ টাকা বা ৫৫ শতাংশ। ২০১৩ সালে যেখানে লবণযুক্ত প্রতি বর্গফুট গরুর চামড়ার সর্বোচ্চ দাম ছিল ৯০ টাকা এবারে তা ৫০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

স্থানীয়ভাবে চামড়া সংগ্রহ ও মজুদকারী ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, ট্যানারি মালিকরা একজোট হয়ে চামড়ার বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে। বাজার যাচাই না করে সরকারকে তারা বাধ্য করছে নিজেদের পছন্দমত দাম নির্ধারণে।

এছাড়া মৌসুমী চামড়া ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করে বলেন, ‘আড়তদাররা সিন্ডিকেট করে চামড়ার দাম কমিয়ে দিয়েছেন। অথচ ক’দিন পর এরাই চামড়ার দাম বাড়িয়ে দিবেন। নানা অজুহাতে আড়তদাররা আমাদের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন করে ছাড়ছেন। তারা একেবারে কম দামে চামড়া কিনে নিজেরা মজুত করছেন। সুযোগ বুঝে ট্যানারি মালিকদের কাছে ঠিকই তারা দ্বিগুণ লাভে বিক্রি করে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিবেন।’

এদিকে বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শাহীন আহমেদ জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে চামড়ার দাম কম। তার প্রভাব দেশের বাজারেও পড়েছে। মৌসুমি ব্যবসায়ীদের ক্ষতির বিষয়ে বাংলাদেশ হাইড অ্যান্ড স্কিন মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি আফতাব উদ্দিন বলেন, আন্তর্জাতিকভাবে চামড়ার দাম কমায় সরকার দেশের বাজারেও কিছুটা কমিয়েছে। কিন্তু অনেক মৌসুমি ব্যবসায়ী বিষয়টি বোঝেনি। তারা আড়তদারদের জন্য নির্ধারিত করা দামে চামড়া কিনেছে। ফলে তারা ক্ষতির শিকার হয়েছেন।

বাংলাদেশের কাঁচা চামড়ার বড় বাজার চীন। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ডিউটি ইস্যু নিয়ে চীনের সাথে সৃষ্ট সমস্যায় চীনের বাজারে বাংলাদেশি কাঁচা চামড়ার চাহিদা কমে গেছে বলে দাবি করছেন ব্যবসায়ীরা। দেশের ট্যানারিগুলোতে এটিপিযুক্ত না হওয়ায় বিদেশিরা অন্য দেশ থেকে চামড়া আমদানি বাড়িয়ে দিয়েছে বলে অনেকেই অভিযোগ করছেন।

ট্যানারি মালিকদের এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে রয়েছে পারটেক্স গ্রুপের কর্ণধার এম এ হাসেম। তার নেতৃত্বে বিএনপি জামায়াতপন্থী কিছু অসাধু চামড়া ব্যবসায়ী অধিক মুনাফা লাভের আশায় নামমাত্র মূল্যে চামড়া ক্রয় করছে খুচরো ব্যবসায়ীদের কাছে থেকে। তারা বিশ্ববাজারে চামড়ার বাজারের দূরবস্থাকে এই ক্ষেত্রে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। একই অজুহাতে সরকারকেও চাপ প্রয়োগ করে নিজেদের সুবিধামতো চামড়ার মূল্য নির্ধারণ করিয়েছে এই সিন্ডিকেট।