নির্বাচনী রূপরেখা নাকি আন্দোলনের রূপরেখা: কোন পথে বিএনপি?  

সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা অনুসারে আগামী ডিসেম্বরের শেষের দিকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। সেই লক্ষ্যেই নির্বাচনী প্রস্তুতি গ্রহণ করে চলেছে নির্বাচন কমিশন। এদিকে নির্বাচন নিয়ে প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে আওয়ামী লীগসহ রাজনৈতিক দলগুলো। ব্যতিক্রম বিএনপি। নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে আসতে পারেনি দলটি। এই দ্বিধা দ্বন্দ্বের পেছনে প্রধান কারণ হচ্ছে দলটির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার কারাবাস। ফলশ্রুতিতে নির্বাচনী রূপরেখা নাকি খালেদার মুক্তি আন্দোলনের রূপরেখা, কোনটিকে প্রাধান্য দিবে এ নিয়ে সংশয়ে ভুগছে দলটির নেতাকর্মীরা।

২০০৮ সালের নির্বাচনে হেরে ক্ষমতাচ্যুত হয়েছিলো বিএনপি। এরপর থেকে এক যুগ সময় ধরে ক্ষমতার বাইরে বিএনপি। মাঝে ২০১৪ সালে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অজুহাতে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেনি বিএনপি। ২০১৪ সালের নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করাটা যে চরম ভুল সিদ্ধান্ত ছিল তা এখন দলের অধিকাংশ নেতাকর্মীরাও মানেন। তাই এবার একাদশ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে চায় দলটির অধিকাংশ নেতাকর্মী। কিন্তু অন্যদিকে দলটির নীতিনির্ধারক পর্যায়ের একটা অংশ নির্বাচনে অংশগ্রহণের চাইতে খালেদার মুক্তিকে বেশি প্রাধান্য দিচ্ছেন। তাদের মতে, দলের চেয়ারপারসনকে জেলে রেখে নির্বাচনে গেলে, সেই নির্বাচনে প্রায় নিশ্চিত পরাজয় বরণ করতে হবে।

দলের আরেক কর্ণধার দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ার পারসন তারেক রহমান একাধিক মামলায় দণ্ডিত হয়ে লন্ডনে পলাতক আছেন প্রায় ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে। এমতাবস্থায় একপ্রকার অভিভাবকহীন অবস্থায় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করলে নির্বাচনে ভরাডুবি ঘটবে নিশ্চিতভাবে। আর তাই খালেদার মুক্তি আন্দোলন ত্বরান্বিত করে তাকে মুক্তির মাধ্যমেই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার পক্ষে মত দিয়েছেন দলটির নীতি নির্ধারকদের একটি অংশ। দলীয় সূত্রে জানা গেছে তারেকপন্থী বিএনপি নেতারাও এই মতের পক্ষে সম্মতি জ্ঞাপন করেছেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

অন্যদিকে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুলসহ একাধিক সিনিয়র নেতা খালেদাকে জেলে রেখে হলেও নির্বাচনে অংশগ্রহণের পক্ষে। তাদের মতে এখন খালেদার মুক্তি আন্দোলনের রূপরেখা নিয়ে মাঠে নামলে দলের নির্বাচনী রূপরেখা বাধাগ্রস্থ হবে। এছাড়া দলের চেয়ারপারসন জেলে থাকলে এক ধরণের পাবলিক সেন্টিমেন্ট পাওয়া যাবেও মনে করেন তারা। তাদের মতে এবারের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে বিজয়ী হতে না পারলে বিলুপ্ত হওয়ার শঙ্কায় পড়বে বিএনপি।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিয়ে তারেকের সাথে কয়েক দফা কথা বলেছেন মির্জা ফখরুল। কিন্তু তাতে কোনো লাভ হয়নি। নির্বাচন বর্জন করে হলেও খালেদার মুক্তি চান তারেক। ফলে দ্বিধা দ্বন্দ্ব কাটছে না বিএনপিতে।