শহিদুল আলমকে নির্দোষ প্রমাণ করতে তৎপর কারা?

নিউজ ডেস্ক: সরকার ও রাষ্ট্র বিরোধী বক্তব্য দেওয়া এবং রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে গোপন ষড়যন্ত্রের দায়ে গ্রেফতার হওয়া দৃক গ্যালারির প্রতিষ্ঠাতা ও আলোকচিত্রী শহিদুল আলম ও তার সমর্থকরা আন্তর্জাতিক একাধিক চক্রকে ব্যবহার করে তার মুক্তির দাবিতে বিভিন্ন প্রচারণা চালাচ্ছে। যারা এমন প্রচারণা চালাচ্ছে তাদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ কয়েকজন শিক্ষক, বিতর্কিত ব্যক্তিদের মধ্যে শীর্ষে আছেন তসলিমা নাসরিনও। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক তৎপরতাও থেমে নেই শহিদুল আলমের। তার মুক্তির পক্ষে কথা বলছেন, সাউথ এশিয়ান মিডিয়া ডিফেন্ডার নেটওয়ার্ক (স্যামডেন), বৃটিশ পার্লামেন্টের দু’জন এমপি- রুশনারা আলি ও রুপা হকসহ একাধিক ব্যক্তি। বিভিন্ন তথ্য পর্যালোচনায় দেখা গেছে, তারা প্রত্যেকেই বরাবরই বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে তৎপর থেকেছেন।

যদিও একাধিক গণমাধ্যমের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে শহিদুল আলম বিভিন্ন অপকর্মের প্রমাণ। ফলে একজন রাষ্ট্রদ্রোহী ব্যক্তির পক্ষ অবলম্বন করে বিভিন্ন মহলের তৎপরতায় জনমনে প্রশ্ন উঠেছে, এতো প্রমাণাদি থাকা স্বত্ত্বেও কেন তারা শহিদুল আলমকে নির্দোষ প্রমাণ করতে তৎপর? বিশ্লেষকরা বলছেন, অর্থ-বিত্তের প্রভাব।

শহিদুল আলম অনেক আগে থেকেই রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতার পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত ছিলেন। আর তা প্রকাশ্যে আসে নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের দাবিতে তার অনৈতিক তৎপরতার প্রেক্ষিতে। তিনি কেবল নিরাপদ সড়ক আন্দোলনকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে চায়নি বরং কোটা আন্দোলনকেও ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে তৎপর ছিলেন এই শহিদুল আলম।

অনুসন্ধানের তথ্য অনুযায়ী, সরকারকে বিপাকে ফেলতে শহিদুল আলম একাধিক আন্তর্জাতিক চক্র ও ব্যক্তিদের সাথে তথ্য আদান-প্রদান করে ষড়যন্ত্রের ই-মেইল চালাচালি করেন। তিনি জনৈক মার্টিন থিয়েরি এবং জ্যাসপার নামক দুজন ব্যক্তির সাথে বিভিন্ন ষড়যন্ত্রের বার্তা আদান-প্রদান করার প্রমাণও মিলেছে এরইমধ্যে। ২৪ জুলাইয়ে মার্টিন ও জ্যাসপার একটি বার্তায় নিরাপদ সড়কের দাবির নামে সরকারকে ক্রমাগত চাপে ফেলতে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম, বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সাথে যোগাযোগ রাখার নির্দেশ দেন শহিদুলকে। প্রয়োজনে টাকা খরচ করে, তাদের উপহার পাঠিয়ে নিজেদের গোপন মিশনের ব্যাপারে কথা বলতে রাজি করানোর জন্য শহিদুলকে অনুরোধ করেন তারা।

এছাড়া সরকারের বিরুদ্ধে জনমত তৈরি করতে সকলকে নিয়ে মাঠে নামার নির্দেশনা আসে দুই বিদেশির ই-মেইল থেকে। প্রয়োজনে নিরাপদ সড়কের আন্দোলনকে সহিংসতার রূপ দিয়ে সরকারের টনক নড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে শহিদুল আলমকে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য অনুরোধ করা হয়। এমনকি পরিকল্পনা হয়- সহিংসতার মাত্রার প্রেক্ষিতে সরকারকে সকল দাবি মেনে নিতে বাধ্য করা হবে বলেও সোচ্চার থাকতে বলা হয়। এছাড়া শহিদুল আলম দুজনকে বার্তা দেন যে, বাংলাদেশের অবস্থা ভাল না। যেকোন দাবি আদায় করতে সহিংসতা করলে সরকার বাধ্য হয়ে সেগুলো মেনে নেয়, এমন মিথ্যা এবং উসকানিমূলক তথ্যও পাচার করেছেন শহিদুল আলম।

এছাড়া আইএসআইয়ের চর এবং পাকিস্তানের বিতর্কিত চিত্রশিল্পী সেলিমা হাসমির সাথেও মেইলে যোগাযোগ করে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে পুলিশ ও সরকার দলীয় কর্মীদের সহিংসতায় জড়িত থাকার গুজব সম্পর্কিত তথ্য পাচার করেন। বাংলাদেশের অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সেলিমা হাসমির মাধ্যমে আইএসআইকে পাচার করে দিয়েছেন শহিদুল আলম।

বাংলাদেশকে একটি অনুন্নত, গরীব দেশ হিসেবে বিদেশিদের কাছে তুলে ধরে দেশকে ছোট করেছেন তিনি। শহিদুল আলমের এমন কাজ সরাসরি রাষ্ট্রদ্রোহ ও ষড়যন্ত্র। বাংলাদেশের মতো একটি উন্নয়নশীল দেশের উন্নয়ন যাত্রাকে ব্যাহত করতেই শহিদুল আলম বিদেশি শত্রুদের পরামর্শে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হন। একাজে তাকে সহায়তা করেছে একাধিক প্রভাবশালী দেশি ও বিদেশি ব্যক্তি।

আটক শহিদুল আলমের শিষ্যরা বিদেশি বুদ্ধিজীবীদের টাকা খাইয়ে তার মুক্তির ব্যবস্থা করার জন্য চিঠি লেখা, বিবৃতি-বক্তব্য দেওয়া ও দেন-দরবার করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সম্প্রতি, মার্কিন বুদ্ধিজীবী নোয়াম চমস্কি, ভারতীয় লেখিকা অরুন্ধতী রায়, কানাডিয়ান লেখক নাওমি ক্লেইন, আমেরিকান চলচ্চিত্র পরিচালক ইভ এন্সলার এবং ভারতীয় বুদ্ধিজীবী বিজয় প্রসাদ, বিশিষ্ট ফটো সাংবাদিক রঘু রাই প্রমুখ ব্যক্তিরা শহিদুল আলমের অপরাধ, ষড়যন্ত্র এবং উস্কানির বিষয়গুলো সম্পর্কে বিশদভাবে না জেনেই অন্ধ হয়ে তার মুক্তির জন্য বিবৃতি দিয়েছেন।

সূত্র বলছে, শহিদুল আলম দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশ এবং সরকারের বিরুদ্ধে গোপনে ষড়যন্ত্র করে আসছিলেন। তার এই অপতৎপরতার আঁচ পেয়ে দীর্ঘদিন তাকে নজরদারিতে রেখেছিল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এমনকি বাংলাদেশকে স্থবির এবং অচল করে দেওয়ার জন্য ইসরাইলের সাথে গোপনে যোগাযোগ এবং তাদের কুপরিকল্পনায় নিজের সমর্থনও জানিয়েছিলেন। গ্রেফতার হওয়ার পর শহিদুল আলমের সহযোগিরা যোগাযোগ করে এইসব বিদেশি বুদ্ধিজীবীদের নিজেদের পক্ষে কাজ করার জন্য বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করছেন। শহিদুল আলম বাংলাদেশ সরকারের উন্নয়ন, অর্জনে ঈর্ষান্বিত হয়ে পাকিস্তান ও ইসরাইলের টাকা খেয়ে শহিদুল আলম এইসব বুদ্ধিজীবীদের ব্রেনওয়াস করে, বাংলাদেশ সম্পর্কে মিথ্যা ও বিভ্রান্তকর তথ্য দিয়ে বিষোদগার করেছেন। আধুনিক সভ্যতা, সংস্কৃতির প্রচলন, প্রচলিত নিয়ম ভাঙ্গার নামে প্রতিনিয়ত অনিয়ম করেছেন শহিদুল আলম। শিল্প-সংস্কৃতির চর্চার নামে বাণিজ্য করেছেন তিনি। শিক্ষার নামে অপশিক্ষা, অপসংস্কৃতির প্রচার ও প্রসারে প্রতিনিয়ত কাজ করেছেন শহিদুল আলম।

সূত্র বলছে, বাংলাদেশে ব্যবসা-বাণিজ্যের সুযোগ তৈরি করে দেওয়ার নামে ইসরাইলের মতো বিতর্কিত একটি রাষ্ট্রের অনুচর হিসেবে কাজ করতেন তিনি। টাকা পয়সার প্রভাব খাটিয়ে বড় বড় বুদ্ধিজীবীদের সাথে বন্ধুত্ব করতেন শহিদুল। এখন এই বিদেশি বুদ্ধিজীবীরা তার ও তার সহযোগিদের প্ররোচণায় পড়ে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে দুর্নাম ছড়াচ্ছে এবং একজন রাষ্ট্রদ্রোহীর পক্ষে সাফাই গেয়ে যাচ্ছেন। যেটি অনভিপ্রেত এবং অনাকাঙ্খিত।

বুদ্ধিজীবীদের এমন অন্ধ অনুকরণ এবং বিভিন্ন মিডিয়ায় মিথ্যা ও উস্কানিমূলক তথ্য ছড়ানোয় দেশবাসী হতাশ হয়েছেন। আইনের দৃষ্টিতে ঘৃণ্য একজন অপরাধীর জন্য আন্তর্জাতিক চক্র বানিয়ে মুক্তির নামে প্রোপাগাণ্ডা ছড়ানোয় সকলেই হতবাক হয়েছেন। অর্থ ও প্রাচুর্য নিশ্চিয়ই মানুষের অপরাধ ঢাকতে পারে না। আইন সবার জন্য সমান। ফলে শহিদুল আলমের উপযুক্ত শাস্তি কামনা করেছেন দেশবাসী।