বিএনপি ও আওয়ামীলীগের পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেছেন, পুলিশ ও আওয়ামী সন্ত্রাসীদের কারণে পবিত্র ঈদের দিনেও তিনি নিজ বাড়িতে অবরুদ্ধ অবস্থায় আছেন। বুধবার বিকেলে কোম্পানীগঞ্জের নিজ বাড়িতে সাংবাদিকদের ডেকে তিনি আরও বলেন, ওবায়দুল কাদেরের নির্দেশে কোম্পানীগঞ্জ ও কবিরহাট থানার পুলিশ আমাকে বাড়ি থেকে বের হতে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন। পুলিশের যোগসাজশে কোন কোন জায়গায় আওয়ামী সন্ত্রাসীরা মহড়া দিচ্ছে।

মওদুদ বলেন, মঙ্গলবার মাজার জেয়ারত করতে গিয়ে আমার নেতাকর্মীদের ওপর আওয়ামী সন্ত্রাসীরা হামলা করেছে। আমাদের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলাও দিয়েছে। একজন পুলিশ অফিসারের নাম উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমার নিজ বাড়ির সামনেও পুলিশ ব্যারিকেড় সৃষ্টি করেছে। যার ফলে সংঘাত এড়াতে ঈদের দিনের নির্ধারিত কর্মসূচীতে না গিয়ে তিনি বাড়িতেই অবস্থান করেন।

বর্তমান মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরকে ইঙ্গিত করে মওদুদ বলেন, আমি কেন জনরোষের শিকার হবো। জনরোষ হবে যারা ক্ষমতায় আছে তাদের বিরুদ্ধে। মওদুদ বলেন, সামনে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধিনে নির্বাচন হবে। তার আগে বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া মুক্তি পাবেন। সেই পর্যন্ত বিএনপির নেতাকর্মীরা ধৈর্য্য ধরছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

এসময় উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল হাই সেলিম, সাধারণ সম্পাদক নুরুল আলম সিকদার, পৌর বিএনপির সভাপতি কামাল উদ্দিন চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান রিপনসহ নেতৃবৃন্দরা উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের এমন বক্তব্যকে জঘন্যতম মিথ্যাচার উল্লেখ করে এমন অভিযোগের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ। বুধবার সন্ধ্যায় উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে সাংবাদিক সম্মেলনে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বাদল বলেন, বিএনপির সিনিয়র নেতা মওদুদ আহমদ মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করছেন। পবিত্র ঈদের দিন কোথাও কোন নেতাকর্মী মহড়া দিচ্ছে না। তিনি নিজ দলের কর্মীদের হামলার ভয়ে বাড়িতে থাকার কৌশল নিয়ে এখন সরকার, মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করছেন।

মিজানুর রহমান বাদল আরও বলেন, মওদুদ সাহেবের বাড়িতে নিজ দলের লোকদের মধ্যে প্রতিনিয়ত মারামারি হয়। সেই পরিস্থিতি থেকে রক্ষার জন্য সাবেক উপ রাষ্ট্রপতি হিসেবে পুলিশ উনাকে নিরাপত্তা দিচ্ছে। আর এইটাকে তিনি অবরুদ্ধ বলে চালিয়ে দিচ্ছেন। বাদলের প্রশ্ন, মওদুদ সাহেব অবরুদ্ধ হলে বিভিন্ন জায়গায় কবর জেয়ারতসহ কর্মসূচীতে যাচ্ছেন কীভাবে?

এসময় জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জা, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ইস্কান্দার হায়দার চৌধুরী বাবুল, উপজেলা যুবলীগ সভাপতি ও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আজম পাশা চৌধুরী রুমেল, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহবুব রশিদ মঞ্জু, উপজেলা যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক গোলাম ছারওয়ার, বসুরহাট পৌরসভা যুবলীগের সভাপতি লুৎফুর রহমান মিন্টু, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহ সভাপতি নুরুল করিম জুয়েল, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি নিজাম উদ্দিন মুন্না প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।