২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা: অন্যতম পৃষ্ঠপোষক জঙ্গি তাজউদ্দিনকে ফেরাচ্ছে সরকার

নিউজ ডেস্ক: ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেতা ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হত্যার ষড়যন্ত্রে বিএনপি-জামায়াত জোটের দুরভিসন্ধি বাস্তবায়নে অন্যতম প্রধান ভূমিকায় থাকা জঙ্গি মাওলানা তাজউদ্দিন আফ্রিকায় অবস্থান করছে। পরারাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, তাকে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া অনেকদূর এগিয়েছে। তাজউদ্দিনকে ফেরত পাঠানোর অংশ হিসেবে দেশটি বাংলাদেশের সঙ্গে বহিঃসমর্পণ চুক্তি করতেও আগ্রহ প্রকাশ করেছে বলে জানা গেছে।

রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে ২০০৪ সালে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার সন্ত্রাসবিরোধী সমাবেশে গ্রেনেড হামলা মামলার অন্যতম আসামি তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত জোটের উপমন্ত্রী বিএনপি নেতা আব্দুস সালাম পিন্টু। গ্রেনেড হামলার পরিকল্পনাও হয় পিন্টুর সরকারি বাসায়। আর এতে মূল ভূমিকা পালন করেন তারই ছোট ভাই তাজউদ্দিন। তাদের আরেক ভাই বাবু ওরফে রাতুল বাবুও গ্রেনেড হামলা মামলার আসামি। তাদের গ্রামের বাড়ি টাঙ্গাইলের গোপালপুর থানার গুলিপেচা গ্রামে।

ঢাকার দু’টি মাদ্রাসায় পড়াশুনা শেষে উচ্চ শিক্ষার জন্য ৯০ দশকে পাকিস্তানে যায় তাজউদ্দিন। দেশে ফেরেন ২০০১ সালে। এসময় থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন স্থানে কমপক্ষে ১৪টি জঙ্গি হামলা ও হামলা চেষ্টার সাথে জড়িত এই জঙ্গি।

২০০৬ সালের ১০ অক্টোবর প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের কতিপয় কর্মকর্তা ও জোট সরকারের নীতিনির্ধারক পর্যায়ের কিছু ব্যক্তি বাদল পরিচয়ে তাকে পাকিস্তান পাঠিয়ে দেয়। সেখান থেকে পাকিস্তানি পাসপোর্টে দক্ষিণ আফ্রিকায় যায় মাওলানা তাজ। রাজনৈতিক আশ্রয় চেয়ে আবেদনও করেছে সে। বিষয়টি ২০১৪ সালের ১৪ আগস্ট বাংলাদেশ পুলিশকে জানায়, দক্ষিণ আফ্রিকান ইন্টারপোল। গ্রেনেড হামলা মামলার আরও দু’আসামি মোরসালিন ও মুত্তাকিনের ভারতের কারাগারে বন্দি থাকার বিষয়টিও নিশ্চিত হয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।