বিএনপির জাতীয় ঐক্যের প্রধান বাধা তারেক

কয়েক মাস ধরেই রাজনৈতিক অঙ্গনে বেশ জোরেশোরেই আলোচনা হচ্ছে বিএনপির জাতীয় ঐক্য গঠনের কথা। বিশেষ করে গত ফেব্রুয়ারিতে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সাজা হওয়ার পর এই আলোচনার পালে বাতাস লাগে।

বিএনপির মূল উদ্দেশ্য আওয়ামী লীগ ও তাদের মিত্রদের বাইরে থাকা দলগুলো নিয়ে ক্ষমতাসীন সরকারের বিরুদ্ধে এবং একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে একটি বড় নির্বাচনী জোট গঠন করা।

বিএনপির  একাধিক সূত্র বলছে, তারেক জিয়ার তীব্র আপত্তি স্বত্বেও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এরকম একটি ঐক্যের পক্ষে। ঐক্যের স্বার্থে তিনি বিএনপির নেতৃত্ব ছাড়তেও প্রস্তুত। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, বর্তমান সরকারকে হটাতে নূন্যতম ইস্যুতে এরকম একটি ঐক্য প্রক্রিয়ার জন্য বেশ কিছুদিন ধরেই কাজ চলছে। জানা গেছে, তিনি চাইছেন, ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে এরকম একটি মোর্চা গড়ে উঠুক।

জামায়াত এবং ইসলামী দলগুলোকে এই জোটের বাইরে রাখা উচিত বলে মনে করেন অনেকেই। সূত্রমতে, যুক্তফ্রন্টের সঙ্গে গণফোরাম এবং বিএনপির একাংশকে নিয়ে এ ধরনের একটি প্ল্যাটফর্ম ‘রাজনৈতিক শূন্যতা পূরণে’ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সুশীল সমাজও মনে করেন। সুশীল সমাজের একটি অংশ এ নিয়ে বিএনপির একাধিক নেতার সঙ্গেও কথা বলেছেন। বিএনপির একটি অংশ এরকম একটি জোটে আগ্রহী হলেও, একটি বড় অংশ এতে যোগদানের পক্ষপাতী নয়। বিএনপির অনাগ্রহী অংশ মনে করে, বৃহত্তর জোটের নেতৃত্ব অবশ্যই বিএনপির হাতে থাকতে হবে। তারা এটাও মনে করেন, এরকম জোটের কর্মসূচিতে বেগম খালেদা জিয়ার নি:শর্ত মুক্তির বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত থাকতে হবে।

কিন্তু যুক্তফ্রন্ট বা ড: কামাল এই ইস্যু ঐক্য প্লাটফর্মে রাখার পক্ষপাতী নন। বরং তারা সুশাসন, দুর্নীতিমুক্ত দেশ এবং সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে জাতীয় ঐক্যমত চান। একটি সূত্র বলছে, ৬ আগস্ট জাতীয় প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত ‘সংক্ষুব্ধ নাগরিক সমাজ’ এই জোটের অবয়ব পরিষ্কার করেছে।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এরকম একটি জোটে যাবার জন্য দলের ভেতর লড়াই করছেন বলেও তাঁর ঘনিষ্ঠরা জানিয়েছে। এজন্য বিএনপিকে ত্যাগ স্বীকার করা উচিত বলেও তিনি মনে করেন। কিন্তু সকলের প্রবল আগ্রহ স্বত্বেও জোটের নেতার প্রশ্নেই এই ঐক্য প্রক্রিয়া এখনো অনিশ্চিত।

ড. কামালের সাথে দ্বন্দ্বের কারণে কামালের নেতৃত্বে তারেক জাতীয় ঐক্যে যেতে আগ্রহী নয়  ও  জাতীয় ঐক্য হলে বিএনপির ক্ষমতা ফকরুলের হাতে চলে যাবে। এ বিষয় গুলোর কারণে তারেক বিএনপিকে জাতীয় ঐক্যে যেতে বাধা দিচ্ছেন।