ফখরুলকে দেখা দিচ্ছেন না খালেদা

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়াকে ৫ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত৷ ছয় মাস ধরে কারাবাস করছেন বিএনপি চেয়ারপারসন।

সম্প্রতি দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর কারাগারে খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করার অনুমতি পেলেও খালেদা জিয়া তার সঙ্গে দেখা করেননি। যদিও দলীয় স্থিতিশীলতা স্বাভাবিক রাখতে বিষয়টিকে অন্যভাবে ব্যাখ্যা করছে বিএনপি।

দলীয় কোন্দল ও বিভ্রান্তি সৃষ্টি, সরকারের পরামর্শে বিএনপি চালানো, বিশেষ ফোন পেলে নেতা-কর্মীদের থেকে দূরে গিয়ে কথা বলা, সরকারের উচ্চ পর্যায়ের লোকদের সাথে গোপন বৈঠক থেকে শুরু করে দলের অনেক সিনিয়র নেতাদের মামলার তুলনায় তার মামলার অস্বাভাবিক ধীরগতিসহ বিবিধ অভিযোগে তিনি দলের ভেতরে সমালোচিত। এমনকি বলা হচ্ছে তার পরামর্শেই দলে তার বিরোধিতাকারীদের গ্রেফতার করা হয়েছে।

অন্যদিকে, বেগম খালেদা জিয়ার কারাদণ্ডের আগে ও পরে দলে বিভক্তি ও নাজুক পরিস্থিতিতে আন্দোলন কর্মসূচিতে সক্রিয় ভূমিকায় না আসতে পারার দরুণ মির্জা ফখরুলের ওপর খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের ক্ষুব্ধ মনোভাব পুরনো।

বিএনপির অভ্যন্তরে নানা কোন্দলের দায় মির্জা ফখরুলের ঘাড়ে আসার পর থেকেই দলে তার অবস্থান নড়বড়ে। মূলত, দলে মির্জা ফখরুলের অবস্থান তৃণমূলে স্পষ্ট করতেই মির্জা ফখরুলের বিষয়ে এমন দৃষ্টিগোচর সিদ্ধান্ত নেয়া হয় বলে জানা যায়। এর আগে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়ার কারাদণ্ডের পর দলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান করা হয় তারেক রহমানকে। পাশাপাশি তারেক রহমানকে সহযোগিতার জন্য দলের মহাসচিবকে বাদ দিয়ে রুহুল কবির রিভভীকে দায়িত্ব দেয়া হয়। যা ছিলো দলে মির্জা ফখরুলের অবস্থান স্পষ্ট করার প্রথম ধাপ। সর্বশেষ ধাপটি হলো কারাগারে অনুমতি পাওয়ার পরেও মির্জা ফখরুলের সঙ্গে খালেদা জিয়ার দেখা না করা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির এক সিনিয়র নেতা বলেন, আসলে দলের বিভক্তি তৈরি থেকে শুরু করে ফখরুল সাহেবের সরকারের সঙ্গে আঁতাতের বিষয়টি বিএনপিতে এখন প্রমাণিত সত্য। তাই তাকে প্রতি পদক্ষেপে তারেক রহমান স্পষ্ট করে বুঝিয়ে দিচ্ছেন যে সে একজন বিশ্বাসঘাতক। তবে সরাসরি তাকে দলের বাইরে বের করে না দিয়ে ফখরুল সাহেবকে প্রতি মুহূর্তে ধিক্কারের মধ্যে রাখতে এটি একটি কৌশল।

মির্জা ফখরুলের বিরুদ্ধে উক্ত নানা অভিযোগের কারণেই বেগম জিয়া কারাগারে তার সঙ্গে দেখা করেননি বলে মনে করা হচ্ছে।