খেলাধুলায় নারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধিতে সরকারের পদক্ষেপ

বাংলাদেশের নারী যেমন ঘর সাজানো, চাকরি সামলানো, শিক্ষাঙ্গনে সফল তেমনি সফলতার ছাপ রেখেছেন ক্রীড়াঙ্গনেও। নারী ক্রীড়াবিদদের হাত ধরে কম সাফল্য পায়নি বাংলাদেশ। জোবেরা রহমান লিনু গিনেস বুকে বারবার নাম তুলে ইতিহাসই তৈরি করেছেন। তিনি ১৬ বার জাতীয় টেবিল টেনিসে চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশকে ভালোভাবেই তুলে ধরছেন সালমা খাতুনেরা। দৌড়ে দ্রুততম মানবী নাজমুন্নাহার বিউটি। দক্ষিণ এশিয়ান ১২তম এসএ গেমসে সীমান্ত এবং শীলা স্বর্ণ জিতে ইতিহাস রচনা করেছেন। খেলার ঝুলিতে এরকম অসংখ্য সাফল্য রয়েছে এখন বাংলাদেশের নারীদের।

কিছুদিন আগে নারী এশিয়া কাপ টি২০ চ্যাম্পিয়ন হয়ে টাইগ্রেসবাহিনী তাক লাগিয়েছে সারা বিশ্বকে। তাদের আরো উৎসাহিত করতে ২ কোটি টাকা অনুদান দেওয়া হয় সরকারের পক্ষ থেকে যেখানে প্রত্যেক নারী খেলোয়াড় পায় ১০ লক্ষ টাকা করে।

 

“সাফ অনূর্ধ্ব-১৫ মহিলা ফুটবল চ্যাম্পিয়নশীপ-২০১৭”-এ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছিল বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৫ মহিলা জাতীয় দল। চলতি বছরের সাফ অনূর্ধ্ব-১৫ মহিলা ফুটবল চ্যাম্পিয়নশীপেও সাফল্যের পতাকা বহন করেছে বাংলার মেয়েরা।

ক্রিকেট, ভলিবল, কাবাডি, হ্যান্ডবল, আর্চারি, ফুটবলসহ সব ধরণের খেলায় বেড়েছে নারী অংশগ্রহীতা। যার মূলে রয়েছে নারীদের খেলায় আগ্রহী করতে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ। নারী খেলোয়াড়দের এগিয়ে নিতে ক্রীড়া অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়ে ২টি কর্মশালা বাস্তবায়ন করা হয়েছে। বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে নারীদের খেলাধুলায় উৎসাহিত করতে নারীদের জন্য স্থানীয় খেলার মাঠে নির্দিষ্ট সময় বরাদ্দ রাখার ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে নারীদের সাফল্যকে ধরে রাখার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরো সফলতার স্বাক্ষর রাখতে আন্তর্জাতিক মানের কোচ, ফিজিও রাখাসহ তাদের উন্নত নিউট্রেশন ব্যবস্থা এবং জিমনেশিয়াম ব্যবহারের প্রতি নজরদারি বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এছাড়া নারী খেলোয়াড়দের ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে তাদের জন্য বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে স্থায়ী চাকরির ব্যবস্থা করার জন্য বিশেষ উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। নারী খেলোয়াড়দের অনুশীলনের সুযোগ বাড়াতে বিদেশী প্রতিযেগিতায় অংশগ্রহণের পূর্বে তাদের ক্যাম্পিং-এর সময় বাড়ানো এবং তাদের সাথে নারী কর্মকর্তাদের রাখার সুব্যবস্থা  করেছে সরকার।