সরকারকে নিয়ে বেফাঁস মন্তব্য করায় তারেকের রোষাণলে রিজভী

নিউজ ডেস্ক:বাংলাদেশ এখন জুলুমের গ্যাস চেম্বার এবং সরকারের শাসন ব্যবস্থাকে হিটলারের সাথে তুলনা করে তারেক রহমান ও দলীয় নেতাদের তোপের মুখে পড়েছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। ১৬ আগস্ট নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে নেতিবাচক মন্তব্য করে সরকারের ক্ষোভ বাড়ানোর শঙ্কায় লন্ডন থেকে ফোন করে রিজভীকে গালমন্দ করেন তারেক রহমান। এসময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত দ্বিতীয় ও তৃতীয় সারির নেতারা বেফাঁস কথা-বার্তা বলার জন্য রিজভী আহমেদের উপর চড়াও হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে এক পর্যায়ে জনৈক এক নেতার হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে বলে জানা যায়।

পল্টন বিএনপি পার্টি অফিস সূত্রে জানা যায়, মাঠের রাজনীতি বাদ দিয়ে রিজভী আহমেদ প্রেস ব্রিফিং কেন্দ্রীক রাজনীতি করে ইতোমধ্যে দলীয় হাইকমান্ডের কাছে হাসির পাত্রে পরিণত হয়েছেন। পান থেকে চুন খসলেই রিজভী সাংবাদিকদের ডেকে অভিযোগের পুরাতন গল্প শুরু করেন। রিজভীর সাজানো গল্পে ভীষণ বিরক্ত সাংবাদিকরা। এমনকি তারেক রহমানও রিজভীর বানোয়াট প্রেস ব্রিফিং নিয়ে বিরক্ত। এর আগেও রিজভীকে একাধিকবার ভুয়া এবং মিথ্যা খবরের জন্য সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়েছে। এতে বিরক্ত হয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে দেশবাসীকে বিভ্রান্ত না করার নির্দেশ দিয়েও ব্যর্থ হয়েছেন তারেক।

বিএনপি যখন গোপনে সরকারের সাথে আঁতাত করে রাজনীতিতে ফিরে আসার সর্বাত্মক চেষ্টা করছে ঠিক সেই মুহূর্তে রিজভী দেশকে হিটলারের গ্যাস চেম্বার এবং সরকারের সুশাসনকে হিটলারের শাসন বলে আখ্যায়িত করে পরিস্থিতি বিগড়ে দেওয়ার চেষ্টা করছেন রিজভী। তাই প্রেস ব্রিফিং শেষ হওয়ার পরপরই লন্ডন থেকে ফোন করে রিজভীকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করেন তারেক রহমান।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত যাত্রাবাড়ী থানা বিএনপির এক নেতার বরাতে জানা যায়, তারেক একাধিক সিনিয়র নেতার মাধ্যমে আওয়ামী লীগের সাথে বৈঠকের জোর চেষ্টা চালাচ্ছেন। সরকারের সব দাবি মেনে নিয়ে নির্বাচনে সরকারের ফর্মুলাও মানতে রাজি তারেক। বিনিময়ে শুধু খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিতে হবে। তারেকের আশা, সরকার সার্বিক দিক বিবেচনা করে বিএনপির প্রতি সদয় হবে। এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়ে রিজভী আহমেদের লাগামহীন কথা সরকারকে ক্ষেপিয়ে তুলতে পারে। যেটি বিএনপি এবং তারেক রহমানের জন্য ক্ষতিকারক হতে পারে। তাই ফোন করে তারেক রিজভীকে মাতব্বরি না করার আদেশ দিয়েছেন। ফোনালাপ শেষে রিজভী আহমেদ মুষড়ে যান। দলের জন্য সব কিছু বিসর্জন দিয়েও অপমান ও গ্লানির জন্য নিজের কপালকে দায়ী করে দুঃখ প্রকাশ করেন রিজভী।