দেশে ঈদুল আযহার প্রস্তুতি ও বাজার সদাই

আর মাত্র কয়েকদিন পরই অনুষ্ঠিত হবে মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের দ্বিতীয় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল – আযহা। এর শাব্দিক অর্থ ত্যাগ করা বা উৎসর্গ করা। ইসলাম ধর্মের নবী হযরত ইব্রাহিম (আঃ) কে  মহান আল্লাহ তাআলা স্বপ্নের মাধ্যমে তার সব থেকে প্রিয় বস্তুটি কুরবানী করার নির্দেশ দেন। এই নির্দেশ অনুযায়ী ইব্রাহিম (আঃ) তার প্রিয় পুত্র ইসমাইলকে কোরবানি করার জন্য প্রস্তুত হলে মহান আল্লাহ তায়ালার ইশারায় তার পুত্রের স্থলে একটি দুম্বা কুরবানী হয়। বেঁচে যায় তার পুত্র ইসমাইল। আল্লাহর নবীর এই অনন্য দৃষ্টান্তের উপর শ্রদ্ধা রেখে প্রতি বছর সারা বিশ্বের ইসলাম ধর্মাবলম্বীরা যার যার সাধ্য মতো উট, গরু, দুম্বা কিংবা ছাগল কোরবানি করে আসছে। আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে ও দেশের মানুষের আয়ের উপর নির্ভর করে গরু ও ছাগল কোরবানির প্রচলন রয়েছে।

ঈদুল- আযহার সিংহ ভাগ আয়োজন করা হয় কোরবানির পশুকে কেন্দ্র করে। পছন্দের পশুটিকে ঠিকঠাকভাবে কোরবানি করার জন্য দরকার হয় অনেক রকমের ছুরি, বটি, চাপাতি। কোরবানিকে সামনে রেখে ছুরি, বটি কেনার হিড়িক পরে যায়। বর্তমানে কামারের দোকানে দেখা যাচ্ছে ক্রেতাদের ভিড়। বছরে এই সময়টার জন্যই অপেক্ষা করে কামাররা। কোরবানি ঈদের দশদিন আগে থেকেই বেড়ে যায় বিক্রি-বাট্টা। সারা বছর যা বিক্রি হয় তার চেয়ে অনেক বেশি বিক্রি হয় এই ঈদে। প্রতিদিন শ’ শ’ ছুরি, বটি শান ও বিক্রি হচ্ছে দেশের কামার পাড়ায় ও কারওয়ান  বাজারের কামারদের দোকানে।

ঈদুল – ফিতরের থেকে ঈদুল- আযহায় সাধারণত ব্যস্ততা বেশি থাকে। ব্যস্ততার প্রধান কারণ হলো উৎসর্গ করা পশুটিকে ভাগ করে গরিব দুঃখীদের জন্য, আত্মীয় স্বজনদের এবং নিজেদের খাওয়ার  জন্য রাখা হয়। রান্না করার ব্যবস্থা করার জন্য দরকার হয় নানা রকম মশলাপাতির। আমাদের এই উপমহাদেশে রয়েছে নানা রকম মশলার ব্যবহার। সেই অনুযায়ী কোরবানি ঈদের সময় মশলার ব্যবহার বেড়ে যায়। মশলা কিনার জন্য দোকানে ভিড় করে ক্রেতা সাধারণ।  বিক্রেতারাও ইতিমধ্যে দোকানে বিভিন্ন পদের মসলা তুলেছেন। আমাদের দেশের বেশির ভাগ মশলা আমদানি নির্ভর। এক বছরে চট্টগ্রাম বন্দরে ৪০ লাখ কেজি এলাচ, দুই লাখ ৮০ হাজার কেজি জায়ফল, সোয়া এক কোটি কেজি দারুচিনি এবং দুই কোটি ৭২ লাখ কেজি জিরা আমদানি হয়েছে। দেশের সবচেয়ে বড় ভোগ্য পণ্যের পাইকারি বাজার হচ্ছে খাতুনগঞ্জ। বিভিন্ন পাইকারি বিক্রেতা তাদের কাছ থেকে মশলা কিনার জন্য ভিড় করছেন।

প্রতি বছর ঈদের আগে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের দাম কিছুটা বেড়ে যায়। বেড়ে যায় অসাধু ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম। কিন্তু এই বছর কঠোর নজরদারিতে রয়েছে ঈদের বাজার। সরকার ছোট বড় সব ধরনের বাজারে মনিটরিংয়ের জন্য ব্যবস্থা করেছে ভ্রাম্যমান আদালতের। সিন্ডিকেটের হাতে যাতে ভোগ্য পণ্য না যায় সেজন্য নেয়া হয়েছে কঠোর ব্যবস্থা। ভোগ্য পণ্যের দাম ক্রেতাদের নাগালের ভিতর রাখার জন্য চেষ্টা করছেন সরকার।

 

কোরবানি পশুর প্রতি আকর্ষণ যতই থাকুক না কেন, উৎসব প্রিয় বাঙালি ভিড় করছে দেশের বিভিন্ন স্থানের শপিংমল গুলোতে। উৎসবের রঙে নিজেকে রাঙাতে বেছে  নিচ্ছে পছন্দ মতো পোশাক। যার যার সাধ্য মতো কিনছেন  নগরীর বিভিন্ন শপিংমল থেকে  এবং ভিড় করছেন পোশাক ও আনুষঙ্গিক কেনাকাটার জন্য।

 

দেশ জুড়ে চলছে ঈদুল আযহার প্রস্তুতি। দেশের জনগণ যাতে শান্তিপূর্ণ নির্বিঘ্নে ঈদ উদযাপন করতে পারে এবং প্রিয়জনদের সাথে ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে পারে সেজন্য সরকার নিয়েছে বাড়তি বেশ কিছু পদক্ষেপ। নাড়ির টানে ছুটে  যাওয়া মানুষের জন্য ছাড়া হয়েছে অগ্রিম টিকেট। ঈদ কে সামনে রেখে দেশের কোথাও যাতে কোনো রকম নাশকতা, অরাজকতা সৃষ্টি না হয় সেজন্য সজাগ রয়েছে দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ঈদকে কেন্দ্র করে যাবতীয় নিরাপত্তার  ব্যবস্থা করেছে সরকার।