কোটা আন্দোলন ও নিরাপদ সড়ক আন্দোলন এক সুঁতোয় গাঁথা?

সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ দুটি বড় রকমের আন্দোলনের স্বাক্ষী হয়েছে। তার মধ্যে একটি হলো কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন অপরটি হলো নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলন। দুটি আন্দোলনই আপাতদৃষ্টিতে অরাজনৈতিক আন্দোলন মনে হলেও আন্দোলনের ধরণ ও কার্যক্রম অবলোকন করে আন্দোলন দুটির মধ্যে অন্য কিছুর গন্ধ পাচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। অনেকেই এই দুটি আন্দোলনকে সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র বলেও আখ্যায়িত করেছেন।

গত এপ্রিল মাসে সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে আন্দোলনে নামে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। প্রথমদিকে এই আন্দোলনে রাজনৈতিক ইন্ধন দেখা না গেলেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনপিপন্থি এক শিক্ষকের সাথে তারেকের ফোনালাপ ফাঁস হওয়ার পরেই এই আন্দোলন নিয়ে সন্দেহের দানা বাঁধতে শুরু করে সংশ্লিষ্ট সবার মনে। এছাড়া আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাসায় ন্যাক্ক্যারজনক হামলার পর তা এক রকম প্রতিষ্ঠা পায় যে এই আন্দোলনকে মূলত সরকার পতনের আন্দোলনে রূপ দিতে চাচ্ছে ষড়যন্ত্রকারীরা।

পরবর্তীতে গত ২৯ জুলাই বাস চাপায় শহীদ রমিজ উদ্দিন কলেজের দুই শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার জের ধরে নিরাপদ সড়ক সহ ৯ দফা দাবি নিয়ে আন্দোলনে নামে রাজধানীর বিভিন্ন স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীরা।

এই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে আলজাজিরা টেলিভিশনে উস্কানিমূলক সাক্ষাৎকার দেন আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে পরিচিত আলোকচিত্রী শহিদুল আলম। সেই সাক্ষাৎকারে তিনি উদ্দেশ্যমূলকভাবে সরকারের বিভিন্ন কর্মকান্ডের অযৌক্তিক সমালোচনা করেন এবং এই আন্দোলনকে সরকার পতনের আন্দোলন হিসেবেও অভিহিত করেন। তিনি তার এই সাক্ষাৎকারে গণতান্ত্রিক ভাবে নির্বাচিত সরকারকে সরাসরি অনির্বাচিত সরকার বলে অভিমত দেন।  পরবর্তীতে তাকে এসব অভিযোগের ভিত্তিতে গ্রেফতার করে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী। তাকে গ্রেফতারের পরই বেরিয়ে আসে বিভিন্ন ধরণের চাঞ্চল্যকর তথ্য।

তাকে গ্রেফতারের পর তার কাছ থেকে পাওয়া অসংখ্য মেইল ও তার ব্যক্তিগত মোবাইলের টেক্সট মেসেজ বিশ্লেষণ করে নিরাপদ সড়কের পাশাপাশি কোটা সংস্কার আন্দোলনের সাথেও তাঁর জড়িত থাকার প্রমাণ মিলেছে। কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালীন সময়ে প্রতিনিয়ত পর্দার আড়ালে থেকে এই আন্দোলনের কলকাঠি নাড়ার জন্য নিয়মিত মেইলে যোগাযোগ করেছেন শিরিন হক, রেজাউর রহমান লেনিন, আসিফ নজরুল, ড. জাফরুল্লাহ চৌধুরী সহ একাধিক ব্যক্তির সাথে। গত ১০ জুলাই শহিদুল আলম, শিরিন হককে একটি মেইল করেন কোটা আন্দোলনের প্রেস রিলিজের বিষয়ে। ওই মেইলের বিষয়ের নাম ছিল press release: quota reform এবং এই মেইলের মূল উদ্দেশ্য ছিল আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে কোটা আন্দোলন সম্পর্কে সবাইকে অবহিত করে সরকারকে বেকায়দায় ফেলা।  এছাড়া কোটা আন্দোলন নিয়ে গোল টেবিল বৈঠকে বসার প্রমাণও মিলেছে শহিদুল আলমের মেইল থেকে।

কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালীন সময়ে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে শহিদুল আলমের পাঠানো মেইল থেকে জানা যায় এই কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করে সরকারকে বেকায়দায় ফেলে একটি বিশেষ মহলের স্বার্থ আদায় করাটাই মূল উদ্দেশ্য ছিল তাদের।

 

কোটা আন্দোলনে সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে ব্যর্থ হয়ে পরবর্তীতে তিনি শিক্ষার্থীদের নিরাপদ সড়কের দাবিকে সরকার বিরোধী আন্দোলনের হাতিয়ার হিসেবে বেছে নেন। আর এজন্যই অনেকেই উক্ত দুই আন্দোলনকে একই সুঁতোয় গাঁথা বলে অভিমত দিয়েছেন। এই দুই আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্য ছিল একটাই আর তা হচ্ছে সরকার পতন আন্দোলন।