সরকারের সাথে আঁতাত করার সিদ্ধান্তে তারেকের রোষাণলে মির্জা ফখরুলরা

নিউজ ডেস্ক: সরকার বিরোধী ষড়যন্ত্র, খালেদা জিয়ার মুক্তি আন্দোলনে ব্যর্থ হয়ে এবার আওয়ামী লীগ সরকারের সাথে গোপনে রাজনৈতিক আঁতাত করার চেষ্টা করছে বিএনপি। তারেক রহমানের ঘোর বিরোধীতা সত্ত্বেও মির্জা ফখরুলপন্থী বিএনপির কয়েকজন নেতা সরকারের সাথে গোপন যোগাযোগ করার চেষ্টা করছেন। তারই অংশ হিসেবে শোকের মাস আগস্টে কোন রাজনৈতিক কর্মসূচি না দেওয়া, বঙ্গবন্ধুর নামে মিথ্যাচার না ছড়ানো, বঙ্গবন্ধুকে জাতির পিতা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া, ১৫ আগস্ট জাতির পিতার মৃত্যু দিবসে দোয়া-মাহফিল আয়োজন করা, বঙ্গবন্ধুর নামে কাঙালিভোজ আয়োজন করা, গরীব মানুষদের মাঝে বস্ত্র বিতরণ, রক্তদান কর্মসূচি পালন করা মতো কঠিন সব সিদ্ধান্ত নিয়েছেন দলটির ফখরুলপন্থী নেতারা।

সূত্র বলছে, লন্ডন থেকে বিএনপিকে সঠিক নির্দেশনা দিতে ব্যর্থ হয়েছেন তারেক রহমান। তারেক রহমানের নির্বুদ্ধিতার কারণে হঠকারী সিদ্ধান্ত নিয়ে বিএনপি প্রায় নিঃশেষ হয়ে গিয়েছে। রাজনীতির নামে হানাহানি, ভাঙচুর, লুটপাট, অগ্নিসন্ত্রাস বিস্তার, মানুষ খুন করার মতো ঘৃণ্য কাজে বিএনপি নেতা-কর্মীদের উসস্কানি দিয়েছেন তারেক রহমান। রাজনীতির নামে সাধারণ মানুষকে নির্যাতন, নিপীড়ন, জিম্মি করার পক্ষে তারেক। সরকারের সাথে রাজনীতিতে পরাস্ত হয়ে সাধারণ মানুষকে শায়েস্তা করে রাগ দমন করতে চান তিনি। কিন্তু মির্জা ফখরুল, ড. মঈন খান, নজরুল ইসলামের মতো কিছুটা রাজনীতি সচেতন ও সংস্কারপন্থী নেতারা প্রতিবারই তারেক রহমানের হিংসার রাজনীতির পরিপন্থী। রাজনীতির নামে ধ্বংস ও তাণ্ডবের বিপক্ষে তারা। একারণে তারেক রহমানের রোষাণলে পড়তে হয়েছে তাদের। তাই এবার তারেক রহমানের নির্দেশ অমান্য করে মানবিকতার পরিচয় দিয়ে শোকের মাসে প্রতিশোধের রাজনীতি বাদ দিয়ে পরিচ্ছন্ন রাজনীতির গান গাইতে চাচ্ছেন বিএনপির সংস্কারপন্থী এই নেতারা। এর জন্য অবশ্য তাদেরকে কঠিন পরীক্ষা দিতে হচ্ছে।

গুঞ্জন রয়েছে, কোরবানি ঈদের পর এই তিন নেতাকে পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হতে পারে। কারণ তারা পাকিস্তান ও তারেক রহমানের নির্দেশনা অমান্য করে আওয়ামী লীগ সরকারের সাথে গোপন আঁতাত করার চেষ্টা করছেন। বঙ্গবন্ধুকে জাতির পিতার স্বীকৃতি দেওয়া বিএনপি ও পাকিস্তানের আদর্শের পরিপন্থী। তাই তারেক রহমানের সাথে মির্জা ফখরুলদের ঝামেলা বেঁধেছে। কিন্তু মির্জা ফখরুলরা তারেক রহমানের নির্দেশনা অমান্য করেই ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস পালন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। শুধু পালন নয়, ওই দিন বঙ্গবন্ধুর রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া মাহফিল আয়োজন, গরীব-দুঃখীদের মাঝে বস্ত্র বিতরণ, রক্তদান কর্মসূচি পালন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মির্জা ফখরুলরা।

এদিকে মির্জা ফখরুলসহ অন্যান্য সংস্কারপন্থী নেতাদের এমন বিপরীত সিদ্ধান্তের জন্য রিজভী আহমেদের মতো তারেকপন্থী নেতারা চরম ক্ষিপ্ত হয়েছেন। দলের চরম বিপর্যয়ে হঠাৎ ভোল পাল্টানোর জন্য মির্জা ফখরুলদের প্রতিহত করার গোপন ঘোষণা দিয়েছেন রিজভী। সূত্র বলছে, ১৫ আগস্ট মির্জা ফখরুলদের কর্মসূচি পণ্ড করে দেওয়ার জন্য পল্টন থানা ছাত্রদলকে দায়িত্ব দিয়েছেন রিজভী। প্রয়োজনে তাদের রাস্তায় পিটিয়ে সরকার দলীয় কর্মীদের নাম ছড়ানোর ষড়যন্ত্রও করছেন রিজভী।

এদিকে মির্জা ফখরুল ইসলামদের মতো সংস্কারপন্থী বিএনপি নেতাদের হঠাৎ শুভবুদ্ধির উদয়ে নতুন চক্রান্তের গন্ধ পাচ্ছেন রাজনীতি বিশ্লেষকরা। এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের একজন অধ্যাপক বলেন, নিজ দলে পাত্তা না পাওয়া মির্জা ফখরুলরা এখন আওয়ামী লীগের সাথে গোপন আঁতাত করার চেষ্টা করছেন। বিষয়টি বাঘের ঘাস খাওয়ার মতো অবস্থা। শুভবুদ্ধির উদয় হয়েছে, তবে পায়ের তলার মাটি সরে যাওয়ার পর। আসলে এটি নতুন রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র। আওয়ামী লীগ সরকারকে ফাঁদে ফেলতে এই পরিকল্পনা তাদের। তবে আওয়ামী লীগও এতো কাঁচা দল নয়।