জনপ্রিয় হলেই কি আইনের বাইরে?

দৃক গ্যালারি ও পাঠশালা সাউথ এশিয়ান মিডিয়া ইনস্টিটিউটের প্রতিষ্ঠাতা শহিদুল আলমকে পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ গত ৫ অগাস্ট রাতে গ্রেপ্তার করার পর থেকেই দেশ-বিদেশের বিভিন্ন সংগঠন ও মানবাধিকারকর্মীরা তাকে মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে আসছেন।

শহিদুল আলমের গ্রেপ্তার বিশ্বজুড়ে ক্ষোভের ঝড় তুলেছে। মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, সাংবাদিকদের বৈশ্বিক সংগঠন কমিটি টু প্রোটেক্ট জার্নালিস্টস (সিপিজে), পেন ইন্টারন্যাশনাল, দক্ষিণ এশিয়া মিডিয়া ডিফেন্ডার্স নেটওয়ার্ক (সামডেন) সহ গার্ডিয়ান ও ওয়াশিংটন পোস্টের মতো সংবাদমাধ্যম  ক্ষোভ জানিয়েছে। বিশ্বের সব বড় বড় পত্রিকা ও ম্যাগাজিনে তার ছবি ছাপা হয়।

স্কুল কলেজ শিক্ষার্থীদের নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলন চলাকালে দেশি বিদেশি বিভিন্ন গোষ্ঠীর সঙ্গে ই-মেইল ও ফেসবুক বার্তা আদান প্রদান করে আন্দোলনকে ভিন্নখাতে নেয়ার চেষ্টা করেছিলেন শহিদুল আলম। এছাড়া সরকারকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ভিন্নভাবে উপস্থাপনের পরিকল্পনা করেন তিনি। এক্ষেত্রে বিদেশি কয়েক ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করে সাংবাদিক নির্যাতনকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে চেয়েছিলেন শহিদুল। তাই সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো, ভীতি ও সন্ত্রাস এবং মিথ্যা তথ্য ও ফেসবুক লাইভে এসে উস্কানী দেয়ার কারণে তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায় মামলা করা ও গ্রেপ্তার করা হয়েছে শহিদুলকে।

বর্তমানে তিনি গোয়েন্দা পুলিশের তত্ত্বাবধায়নে রিমান্ডে রয়েছেন। ইতিমধ্যে তিনি দেশের বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়েছেন স্বীকার করে ক্ষমাও চেয়েছেন।

গ্রেপ্তারের পর পুলিশ হেফাজতে নির্যাতন করা হয়েছে বলেও শহিদুল ইতোমধ্যে অভিযোগ করেছেন। এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মানবাধিকারকর্মী সুলতানা কামাল বলেছেন, শহিদুলের ওপর অত্যাচারের মাধ্যমে সরকার সবার মধ্যে ভয় ধরাতে চাইছে।

২০১৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি নিউ ইয়র্ক টাইমস এ তার ছাপানো লেখায় বাংলাদেশ নিয়ে মিথ্যাচার ও বিভ্রান্ত মূলক তথ্য প্রকাশ পায়। তিনি যুদ্ধাপরাধের বিচার নিয়ে মিথ্যাচার করেন। শহিদুল লিখেছেন, ২০১৩ এর আগে যুদ্ধাপরাধের কোন বিচার হয়নি এবং সেই না হওয়ার কারণও বঙ্গবন্ধুর সাধারণ ক্ষমা। তবে ইতিহাস ভিন্ন কথা বলছে, ১৯৭২ সালের ২৪ জানুয়ারি দালাল আইন ১৯৭২ বা দ্য বাংলাদেশ কোলাবোরেটরস (স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল) অর্ডার ১৯৭২ প্রণয়ন করা হয়। মামলায় মৃত্যুদণ্ড, যাবজ্জীবনসহ বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেয়া হয় ৭৫২ জনকে।

দেশের সুশীল সমাজ, বিদেশি বন্ধু ও সাংবাদিকরা শহিদুল আলমের পক্ষে কথা বলছেন। তার গ্রেফতার নিয়ে বেশ কিছু দিন ধরে ক্ষেভ প্রকাশ করে আসছে বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে। শহিদুল আলমকে কি আইনের ঊর্ধ্বে রাখার কথা বলতে চাচ্ছেন তারা?

তাহলে কি সকল সফল ও জনপ্রিয় মানুষই আইনের ঊর্ধ্বে?