আন্দোলনের নামে দেশের বিরুদ্ধে বিএনপির ষড়যন্ত্র অব্যাহত

নিউজ ডেস্ক: আন্দোলনে সফল হতে না পেরে জাতীয় ঐক্য গঠনের নামে দেশ বিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে যাচ্ছে বিএনপি। জাতীয় ঐক্য গঠনের সাথে সাথে দুই সপ্তাহের আন্দোলন কর্মসূচি গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে দলটি। সূত্র বলছে, এই কর্মসূচির নামে দেশের বিরুদ্ধে বিএনপির ষড়যন্ত্র অব্যাহত রয়েছে। এ জন্য ২০ দলের বাইরের অন্য রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সরকারকে বেকায়দায় ফেলার আলোচনা হচ্ছে বলেও জানা গেছে।

বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, ঢাকাসহ সারাদেশে নিজেদের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি বিভিন্ন ইস্যুর আন্দোলনে রাজপথ উত্তপ্ত করা সন্ত্রাসীদের সরব উপস্থিতি নিশ্চিত করে সশস্ত্র অভ্যুত্থান ঘটাতে চায় বিএনপি। এ লক্ষ্যে সকল ষড়যন্ত্রের জাল বিছানো প্রায় সম্পন্ন করেছে তারা। এখন কোটা ও নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনসহ এ পযর্ন্ত বিভিন্ন দাবিতে রাজপথে সন্ত্রাসীরা যাতে বিএনপির আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয় সে চেষ্টা চালাচ্ছে দলটি।

বিএনপি সূত্রমতে, নিবার্চনকালীন সরকার গঠনের দিন থেকে সবার্ত্মক আন্দোলনে নামতে চায় বিএনপি। সবোর্চ্চ দুই সপ্তাহের মধ্যে এই আন্দোলনের সুফল ঘরে তোলা এবং আন্দোলন সফল করতে দলের তৃণমূলের শীর্ষ সন্ত্রাসীদের মতামত নিয়ে একটি খসড়া রোডম্যাপও তৈরি করা হয়েছে। এ সকল বিষয়ে ২০ দলের উগ্র মৌলবাদীদের মতামতও নেয়া হয়েছে। এসব মতামতের ভিত্তিতে লন্ডনে অবস্থানরত দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান আন্তর্জাতিক মাফিয়াদের সাথে পরিকল্পনা করে চূড়ান্ত ষড়যন্ত্রের সিদ্ধান্ত নেবেন।

গোপন সূত্রে জানা যায়, আন্দোলন সফলে মাঠ পর্যায়ের শীর্ষ সন্ত্রাসীদের সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে বিএনপি। এজন্য ২০ দলের বাইরের অন্য রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গেও এই সন্ত্রাসীদের কাজে লাগানোর পথ-পরিক্রমা সম্পর্কে আলোচনার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। সম্প্রতি কোটা ও নিরাপদ সড়কের দাবিতে ছাত্র আন্দোলনের পাশাপাশি বড় ও ছোট যেসব আন্দোলন হয়েছে সব আন্দোলনকারী নেতাদের সঙ্গেও যোগাযোগ করেছে বিএনপি। সুসংগঠিত হতে না পারার কারণে যেসব আন্দোলন রাজপথে উঠেছে কিন্তু সফল হয়নি সেগুলো আমলে নিয়ে পুনরায় নেতাকর্মীদের সংগঠিত করে নতুন মাত্রায় এগিয়ে যেতে বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সাথে আলোচনা চলছে।

ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের আস্থাভাজন বিএনপির মধ্য সারির এক বহিষ্কৃত নেতা জানান, আসন্ন আন্দোলন কমর্সূচিতে সন্ত্রাসীদের সম্পৃক্ত করাই বিএনপির প্রধান লক্ষ্য। এজন্য খালেদা জিয়ার মুক্তি, নির্দলীয় সরকারের অধীনে নিবার্চনে বিএনপির প্রধান দাবির সঙ্গে জনসম্পৃক্ত ইস্যুগুলোকে সামনে রেখেই ষড়যন্ত্রের প্রথম ধাপ শুরু হবে। এরমধ্যে কোটা সংস্কার এবং ছাত্রদের নিরাপদ সড়কের দাবির পাশাপাশি গ্যাস-বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি, নিত্যপণ্যের ঊধ্বর্মুখী দাম, নগরীতে যানজট, জলজট, স্থানীয় সরকারের নিবার্চনের বিষয়গুলো সামনে নিয়ে এসে জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি করা হবে।

এছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে কোটা ও নিরাপদ সড়কের আন্দোলনের কারণে গ্রেপ্তারকৃতদের মুক্তি এবং মামলা প্রত্যাহারের দাবি সংযোজন করা হবে সুকৌশলে। এসব আন্দোলনে সামনে থেকে যারা নেতৃত্ব দিয়েছিল তাদের সংগঠিত করার চেষ্টা চলছে। হোটেল ক্যাপিটাল নামে অখ্যাত এক মিলনায়তনে এসব নেতাদের সাথে অতি গোপনে রুদ্ধদ্বার বৈঠকও করেছে বিএনপির শীর্ষ দু’জন নেতা।

বিএনপির সিনিয়র এক নেতা সূত্রে জানা যায়, ছাত্র, শিক্ষক, পেশাজীবী, উপজাতিসহ প্রতিদিনই বিভিন্ন দাবিতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ মানববন্ধনসহ নানা কমর্সূচি পালন করে। লোকবল কম থাকার কারণে ও অনেক বড় সমস্যার মাঝে ক্ষুদ্র সমস্যা নিয়ে ছোট পরিসরে আন্দোলন হওয়ায় মিডিয়ার দৃষ্টিতে আসে না। সে সব আন্দোলনকারীর সঙ্গেও একাত্ম হতে চায় বিএনপি। তাদের পেছন দিক থেকে সব ধরণের সাহায্য করবে দলটি। সবর্স্তরের আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলে নির্দিষ্ট দিনে ও সময়ে সকল দাবি আদায়ের জন্য ঐক্যবদ্ধ হয়ে মাঠে নামার প্রস্তাব দিয়েছে বিএনপি।

দলের একাধিক পদ বঞ্চিত নেতা সূত্রে জানা যায়, নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনরত কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মাঝে বিএনপি কর্মীরা মিশে গিয়ে দেশের মধ্যে সহিংসতা সৃষ্টির পরিকল্পনা করলে সেটি সরকার তথা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখকে ফাঁকি দিতে পারিনি। ফলে বিএনপির পক্ষ থেকে এমন উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে যে, বিএনপির আন্দোলনে সন্ত্রাসীরাও মাঠে নেমে গাড়ি ভাংচুরসহ সকল প্রকার অপকর্মে তারা লিপ্ত থাকবে। এজন্য দলকে সন্ত্রাসীদের আখড়ায় পরিণত করেছে বিএনপি। তাদের সহিংসতার জন্য প্রস্তুতও করা হয়েছে।

বিএনপি সূত্র মতে, এবারের ষড়যন্ত্র সফল করতে বিএনপির সাংগঠনিক প্রস্তুতির সাথে সাথে দেশীয় অস্ত্র সংরক্ষণের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। যতটা সম্ভব দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের পুনর্গঠন করা হয়েছে। সারাদেশে জেলা ও মহানগরে সন্ত্রাসীদের নিয়ে কমিটি গঠন প্রায় শেষ। সবার্ত্মক আন্দোলনকে সামনে রেখে সারাদেশে দলের সন্ত্রাসীদের কাছে এরই মধ্যে বার্তা দেয়া হয়েছে। তাদের সবাইকে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে প্রস্তুত থাকার নিদের্শ দেয়া হয়েছে।

এদিকে ১০ বছরে দফায় দফায় আন্দোলনের নামে ষড়যন্ত্র করে সরকারকে বেকায়দায় ফেলা না গেলেও দুই সপ্তাহের আন্দোলনে সফলতা পাওয়া সম্ভব হবে কিনা দলের তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মনে এমন প্রশ্ন থাকলেও সিনিয়র নেতারা তাদের নানাভাবে যুক্তি দিচ্ছেন। ঘরোয়া বৈঠকের পাশাপাশি বিভিন্ন অনুষ্ঠানে নেতারা বিগত সময়ের সফল আন্দোলনের উদাহরণ তুলে ধরেছেন।

প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালের জাতীয় নিবার্চনের পর দুই দফা সরকার বিরোধী আন্দোলনের ষড়যন্ত্রে ব্যর্থ হয়ে বিএনপি দীর্ঘদিন রাজপথের আন্দোলনে নিষ্ক্রিয় রয়েছে।