বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় বঙ্গবন্ধুর অবদানকে অস্বীকার করতেই খালেদা জিয়ার জন্মদিন নাটক

 

নিউজ ডেস্ক: মহান মুক্তিযুদ্ধে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অবদানকে অস্বীকার করতে এবং বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্ররত পাকিস্তানকে পুনরায় উজ্জীবিত করতেই ১৫ অাগস্ট ভুয়া জন্মদিন পালন করতেন বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া। ১৯৯১ সালে বরিশাল-২ আসনের সাংসদ শহীদুল হক জামালের পরামর্শে এটি চালু হলেও পরবর্তীতে তারেক-মামুন-ফালুদের পৃষ্ঠপোষকতায় এ জন্মদিনের পৈশাচিকতার ব্যাপকতা বৃদ্ধি পায়।

বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত্বের বিশ্লেষণে দেখা যায়, খালেদা জিয়া বিভিন্ন সময়ে বিভিন্নভাবে নিজের জন্মদিন নিয়ে ছল-চাতুরি করেছেন। ১৯৯১ সালে বিএনপি নেত্রী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে নেয়া তথ্যে রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা বাসসের করা প্রতিবেদনে জন্মদিন হিসেবে ১৯৪৭ সালের ১৯ আগস্টকে জানানো হয়। তবে তার আরও চারটি জন্মদিবসের ইতিহাস খুঁজে পাওয়া যায়। বিএনপি নেত্রী মেট্রিক পারীক্ষার নম্বরপত্রে জন্ম তারিখ হিসেবে উল্লেখ রয়েছে ৫ সেপ্টেম্বর, ১৯৪৬। এছাড়া বিয়ের কাবিননামায় জন্মদিন উল্লেখ রয়েছে ১৯৪৪ সালের ৯ আগস্ট। অপরদিকে ২০০০ সালের ভোটার তালিকার তথ্য বিবরণী ফরমে বিএনপি নেত্রী তার জন্মদিন হিসেবে ১৯৪৬ সালের ১৫ আগস্টের কথা উল্লেখ করেন। আবার খালেদা জিয়ার পাসপোর্টে জন্মদিন হিসেবে উল্লেখ আছে ১৯৪৬ সালের ৫ আগস্ট।

খালেদা জিয়ার একাধিক জন্মদিনের এই হাস্যকর অবস্থা নিয়ে ইতিহাসবিদ সৈয়দ মকবুল হোসেন বলেন, কোনো সুস্থ মানুষ নিজের জন্মদিন নিয়ে এমন ছল-চাতুরি করতে পারে না। খালেদা জিয়া জন্মদিন নিয়ে হাস্যরস সৃষ্টি করেছেন। নিশ্চয়ই একটা মানুষ তার মায়ের পেট থেকে চারবার জন্ম নিতে পারে না। খালেদা জিয়ার ভুয়া জন্ম দিনের ঘটনাগুলো তার রাজনৈতিক প্রতারণার চরিত্র স্পষ্ট করেছে।

খালেদা জিয়ার জন্মদিন প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের একজন সিনিয়র নেতা বলেন, খালেদা জিয়ার নাম গিনেস বুকে লিখে রাখা উচিত। তিনি অসাধ্যকে সাধ্য করেছেন। চারবার জন্ম নেওয়া সহজ কথা নয়।! ভাবতেও অবাক লাগে ১৫ আগস্টের মত জাতীয় একটি শোকের দিনে একজন নারী নেত্রী ঢাক-ঢোল পিটিয়ে, মিষ্টি বিতরণ করে জন্মদিন পালন করেন। মানুষ এতটা নির্দয় ও নির্লজ্জ হতে পারে! যে দেশে বাস করেন, সেই দেশের মহান নায়ককে অবজ্ঞা করেন খালেদা জিয়া। বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক।

১৫ই আগস্ট বাংলাদেশের জন্য একটি শোকাবহ দিন। এ দিনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুসহ তার পরিবারের বেশিরভাগ সদস্যকে হত্যা করা হয়। অথচ এ দিনকে নিয়ে উপহাস করে খালেদা জিয়া নিজের ভুয়া জন্মদিন পালন করেছিলেন। খালেদা জিয়ার এ ঘৃণিত কাজ প্রমাণ করে দেশের মহান নেতার প্রতি তার হৃদয়ে কতোটুকু হিংসা লুকিয়ে আছে। এমন এক হিংসুটে নেত্রীকে দেশের মানুষ কখনোই ক্ষমা করবে না বলে জানান একাধিক রাজনৈতিক বিশ্লেষক।