অন্তর্বর্তীকালীন সরকারে যোগ দিতে ইচ্ছুক ফখরুল, তারেকের না

 

যেহেতু সংবিধান সংশোধন করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করা হয়েছে সেহেতু অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ব্যবস্থা ছাড়া একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অন্য কোন উপায় নেই। তাই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনেই নির্বাচনে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তবে অমত আছে তারেকের।

সংবিধানের ৫৭(৩) অনুচ্ছেদে বলা আছে, ‘প্রধানমন্ত্রীর উত্তরাধিকারী কার্যভার গ্রহণ না করা পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীকে স্বীয় পদে বহাল থাকিতে এই অনুচ্ছেদের কোনো কিছুই অযোগ্য করিবে না।’ এর অর্থ পরিষ্কার, যিনি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন, তিনি নতুন একজন প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত স্বপদে বহাল থাকবেন। অর্থাৎ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাই থাকছেন এবং তাকে প্রধানমন্ত্রী পদে বহাল রেখেই নির্বাচন কমিশন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজন করবে।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকার অধীনে নির্বাচনে যেতে প্রথম দিকে আপত্তি ছিল বিএনপির। এ কারণেই দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয়নি তারা। তবে তাদের সে ভুল এখন ভাঙছে। বর্তমান সরকারের অধীনেই যে নিরপেক্ষ, শুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হওয়া সম্ভব পাঁচ সিটি নির্বাচন তার প্রমাণ।

বিএনপির শীর্ষনেতারা মনে করেন, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচনে অংশ না নেওয়াটা ছিল দলের একটি ভুল সিদ্ধান্ত। দলের অধিকাংশ নেতাই এখন নির্বাচনে অংশ নিতে চান।

যেহেতু তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কোনো সুযোগ নেই সেহেতু অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে যুক্ত হয়েই নির্বাচনে আসতে হবে বিএনপির।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় সাজা পেয়ে বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া কারাগারে, দুর্নীতি মামলায় লন্ডনে পলাতক দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এজন্যে খালেদা ও তারেকের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারে যোগ দেওয়ার সুযোগ নেই। দলের এমন অবস্থায় মির্জা ফখরুল অন্তর্বর্তীকালীন সরকারে যোগ দেওয়ার প্রস্তাব করেছিলেন তারেক রহমানকে। তবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারে যেতে মানা করেন তারেক।

নাম প্রকাশ না করা শর্তে বিএনপির এক নেতা জানান, ফখরুলের প্রতি বিশ্বাস পাচ্ছে না তারেক। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধিনে যাওয়ার সংবাদ পেয়েই, এ বিষয়ে আলোচনার জন্য ফখরুলকে জরুরি ভিত্তিতে লন্ডনে ডাকেন তারেক এবং ফখরুলকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারে যেতে মানা করেন। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারে যোগ দেওয়ার নামে আওয়ামীলীগের সাথে মিলে দলের নেতৃত্ত্ব নিতে চায় এমন ভাবনা থেকেই তারেক তাকে মানা করে থাকতে পারে বলে মনে করেন এ নেতা।

দলের সিনিয়র নেতাদের প্রতি তারেকের এমন সন্দেহের কারণে অনেক আগেই সম্পর্ক খারাপ হয়েছে তাদের সাথে। তাই তারেক সিনিয়র নেতাদের এখন আর আগের মত মূল্যায়ন করছে না।