সোনালী অতীত আবার ফিরছে রেশম শিল্পে

এক সময় রেশমের অতীত ঐতিহ্য কেবলই ইতিহাস ছিল। কিন্তু বর্তমানে আবারও হারানো অতীত ফিরে পেতে যাচ্ছে এই রেশম শিল্প। রেশমপোকার গুটি থেকে তৈরি হয় এর সুতা। পরে সুতা থেকে কাপড় এবং এজন্যই এই কাপড়কে রেশম কাপড় বা সিল্ক বলে। আমাদের দেশে রাজশাহীকে সিল্ক সিটি হিসেবে আখ্যায়িত করা হয় কারণ রাজশাহীতেই রয়েছে সিল্ক বা রেশম  তৈরির কারখানা। রেশমগুটি বা কোকুন দেখতে অনেকটা কবুতরের ডিমের ন্যায়। কোকুন তৈরি হতে তিনদিন সময় লাগে। কোকুনের আকৃতি ও রঙে ভিন্নতা পরিলক্ষিত হয়। ৮ দিনের মধ্যে গুটির ভেতর শুককীট পিউপায় পরিণত হয়। পিউপায় পরিণত হওয়ার পূর্বেই কোকুন গরম পানিতে সিদ্ধ করে ভেতরের পোকাটি মেরে ফেলতে হয়। এই কোকুন থেকেই রেশম সুতা সংগ্রহ করা হয়।

আমাদের দেশের রাজশাহী অঞ্চলকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছিল এই রেশম শিল্প। কিন্তু নানা রকম প্রতিবন্ধকতা ও সমস্যার কারণে ধীরে ধীরে হারিয়ে যেতে বসেছে এই শিল্প। ২০০২ সালে তৎকালীন বিএনপি সরকার রেশমের কারখানা বন্ধ করে দেয়। এরপর সরকারি ভাবে আর রেশম কারখানায় লুমের চাকা ঘোরেনি। যদিও ব্যাক্তিগত উদ্যোগে গুটি কয়েক মানুষ এই পেশার সাথে নিয়োজিত ছিলেন। কিন্তু নানা রকম প্রতিবন্ধকতায় তারাও এই কুটির শিল্পের এই অংশকে উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ দিতে ব্যর্থ হয়েছেন।

বর্তমান সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় আবার সুদিনের আশায় আছে রেশম শিল্প। রাজশাহীর নব নির্বাচিত মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন তাঁর নির্বাচনী ইশতেহারে জোর দিয়েছেন রাজশাহীর ঐতিহ্য তথা দেশের ঐতিহ্য এই রেশম শিল্পের উপর। সম্প্রতি রেশম বোর্ডের সদস্য ও এমপি ফজলে হোসেন বাদশা পাঁচটি পাওয়ার লুমের মাধ্যমে চালু করেন বন্ধ হয়ে যাওয়া রেশম কারখানা। পুরোনো লুম গুলো দীর্ঘ দিন চালু না হওয়ার কারণে মেরামত করা হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে সব লুম চালু হবে এবং আবার প্রাণ ফিরে পাবে রাজশাহীর রেশম কারখানা গুলো।