তারেকের ‘সেপ্টেম্বর-অক্টোবর’ পরিকল্পনা, কেন্দ্র-তৃণমূলের অমত

নিউজ ডেস্ক: লন্ডনে পলাতক বিএনপি নেতা তারেক রহমানের নানা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে গিয়ে একের পর এক একদিকে প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে বিএনপি অন্যদিকে ক্ষুণ্ণ হয়েছে দলীয় নেতাদের ইমেজ। ফলে নেতাদের উপলব্ধি যে পর্যায়ে পৌঁছেছে তা থেকে নেতারা একমত যে, সহিংসতা দিয়ে স্বার্থসিদ্ধি বাংলাদেশের রাজনীতিতে আর সম্ভব নয়। নেতাদের বিবেচনা এ পর্যায়ে পৌঁছালেও থেমে নেই তারেকের পরিকল্পনা। আগামী সেপ্টেম্বর-অক্টোবরকে কেন্দ্র করে নতুন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে তোড়জোড় শুরু করেছেন তারেক রহমান। যদিও কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের অধিকাংশ নেতা-কর্মীই তারেকের নতুন পরিকল্পনার বিপক্ষে অবস্থান করছেন বলে দলীয় একাধিক সূত্র মারফত নিশ্চিত হওয়া গেছে।

প্রসঙ্গত, সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস তৎপরতাকে কাজে লাগিয়ে সরকার পতনের নীলনকশা বাস্তবায়নের নির্দেশ দিয়েছেন তারেক রহমান। আর এ জন্য সিটি নির্বাচনে বিগড়ে যাওয়া সম্পর্ক স্বাভাবিকে আনতে বিশ্ববিদ্যালয় এবং মেডিকেল কলেজের ভর্তি পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের গুজব ছড়িয়ে জামায়াতকে নতুন করে ছাত্র আন্দোলন শুরুর প্রস্তুতি নিতে নির্দেশ দিয়েছে বিএনপি। ভর্তি পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে প্রায় ২০ লাখ উচ্চমাধ্যমিক পাশ শিক্ষার্থীকে ক্ষেপিয়ে রাস্তায় নামানোর পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেছে। আর তা সংঘটিত করতে শিবির পরিচালিত কোচিং সেন্টারগুলোকেই কাজে লাগাতে নির্দেশ দিয়েছেন তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, প্রশ্নপত্র ফাঁস না হলে গুজব ছড়িয়ে হলেও পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করতে হবে। আর আন্দোলনকে ভারি করতে তৃণমূলের নেতাদেরও অংশগ্রহণ করতে নির্দেশ দিয়েছেন তারেক।

সূত্র বলছে, নেতাদের অভিযোগ, ২০১৪ সালের সহিংসতার পর প্রতিটি আন্দোলন-কর্মসূচিতে সহিংসতা বর্জনে চেষ্টা করেছে বিএনপি নেতারা। তারা চেয়েছে শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক অঙ্গন। কিন্তু তা বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি কেবল তারেক রহমানের কারণে। বিএনপির কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের নেতারা তার নির্দেশে আন্দোলন সফল করতে চেষ্টা করে বরাবরই জেল-জুলুমের শিকার হয়েছে। একদিকে দেশের মানুষের কাছে বিএনপির গ্রহণযোগ্যতা যেমন হারিয়েছে, তেমনি নেতারাও প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছেন। সম্প্রতি কোটা সংস্কার ও নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনে বিএনপির অবস্থান তলানীতে পৌঁছানোর কারণও তারেক রহমানের পরিকল্পনা। তিনি পরিকল্পনা করলেও তার আস্থাভাজনরা তা ফাঁস করে দেয়। সমস্যায় পড়তে হয় ক্লিন ইমেজের নেতাদের।

তারেকের নতুন পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির একজন সিনিয়র নেতা বলেন, সারা পৃথিবীতে এমন অনেক দল আছে যারা রাজনীতির মাঠ না বুঝে পরিকল্পনা গ্রহণ করে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। একতরফা সিদ্ধান্তের মাসুল ভালো হয় না তা এখন বোঝার সময় হয়েছে। পরপর দুটি সাধারণ আন্দোলনকে করায়ত্ত করতে তরেক রহমানের পরিকল্পনা মোতাবেক হেঁটে বিএনপি তার অবস্থান থেকে যতটুকু সরে গেছে তা ফিরিয়ে আনা আদৌ সম্ভব কিনা আমার জানা নেই। এমন পরিস্থিতিতে আর কোনো আন্দোলনে যাওয়া আমার মতো অনেক নেতাই মানতে নারাজ। রাজনীতি করতে চাই, গুন্ডামী নয়।

এদিকে বিগত একাধিক ঘটনায় মামলার শিকার হওয়া তৃণমূল নেতারা বলছেন, এ পর্যন্ত যে পরিমাণ মামলা ঘাড়ে ঝুলে আছে, তাতে ঘর-সংসার সামলানো এমনিতেই মুশকিল হয়ে যাচ্ছে। নির্দেশ যেখান থেকে আসে আসুক না কেনো, নতুন করে আর কোনো মামলা-হামলায় জড়াতে চাই না।