দেশের প্রতিটি ঘরে জ্বলবে বিদ্যুতের আলো

রূপকল্প- ২১ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে দ্রুত অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে এগোচ্ছে দেশ। রূপকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য দেশের প্রতিটি কোণে চলে যাচ্ছে নাগরিক সেবা। ২০০৯ উৎপাদিত বিদ্যুতের  পরিমাণ ছিল ৩ হাজার ২৬৮ মেগাওয়াট। এরপর থেকেই দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিমাণ  বাড়তে থাকে। সম্প্রতি ২০১৮ সালের ১৯ মার্চ সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ উৎপাদন হয় ১০ হাজার ৮৪ মেগাওয়াট। ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার বিদ্যুতের চাহিদা মিটানোর জন্য প্রতি বছরই বাড়ানো হয়েছে বিদ্যুতের  উৎপাদন। একসময় দেশের মানুষ প্রতি ঘন্টায় ঘন্টায় অসহনীয় লোডশেডিংয়ের যন্ত্রনা সহ্য করতে হতো। স্থবির হয়ে পড়তো জনজীবন। বন্ধ হয়ে থাকতো শিল্প-কারখানার উৎপাদন। শিল্প-কারখানার উৎপাদন আরো ত্বরান্বিত  করতে বাড়ানো হয় বিদ্যুৎ উৎপাদন।

দেশের সর্বত্র বিদ্যুতের আলো  ছড়িয়ে দিতে স্থাপন করা হয়েছে নতুন নতুন বিদ্যুৎ কেন্দ্র। যার মাধ্যমে আলোকিত হচ্ছে  আমাদের গ্রাম বাংলা। এক সময় সন্ধ্যা নামলেই ঘরে ঘরে জ্বলে উঠতো কুপির আলো। আজ সে সব অজপাড়া গাঁয়ে জ্বলছে বিদ্যুৎ অথবা সৌর বিদ্যুতের  আলো। দেশের প্রতিটি গ্রামের প্রতিটি ঘরে বিদ্যুতের আলো পৌঁছে দিতে নবনির্মিত আটটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এছাড়াও দু’টি গ্রিড সাবস্টেশন এবং ২১টি উপজেলায় শতভাগ বিদ্যুতায়নের কার্যক্রম উদ্বোধন করেন তিনি। দেশের প্রতিটি ঘরে বিদ্যুতের আলো পৌঁছে দিতে বদ্ধ পরিকর বর্তমান সরকার।

প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধন করা বিদ্যুৎ কেন্দ্র গুলো হল : ঘোড়াশালের কোড্ডায়  ৩৬৫ মেগাওয়াট সমন্বিত বিদ্যুৎকেন্দ্র,গাজীপুর ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্, দাউদকান্দি ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র, ফেঞ্চুগঞ্জ ২০০ মেগাওয়াট সমন্বিত বিদ্যুৎকেন্দ্র, নোয়াপাড়া ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র, মুন্সীগঞ্জের কমলাঘাটে মুন্সীগঞ্জ ৫৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং সিদ্ধিরগঞ্জে ৩৩৫ মেগাওয়াট সমন্বিত বিদ্যুৎকেন্দ্র (গ্যাস টারবাইন) ও সিদ্ধিরগঞ্জ ২২৫ সমন্বিত বিদ্যুৎকেন্দ্র (দ্বিতীয় ইউনিট)।

ভিডিও কনফারেন্সে প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধন করলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্র

নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে বিদ্যুৎ সংযোগের মাধ্যমে দেশের সব ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ সরবরাহ ও ব্যবহার নিশ্চিত করতে চায় সরকার। ২০২১ সালের ভিতর প্রত্যন্ত অঞ্চলের কোনো ঘর বিদ্যুতের আলো ছাড়া থাকবে না। বিদ্যুতের আলোয় আলোকিত হবে দেশের প্রতিটি গ্রাম, প্রতিটি ঘর।