জোট সঙ্গীদের নিজেদের করে ভবিষ্যত গড়ার পরিকল্পনা জামায়াতের

নিউজ ডেস্ক: জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘনিয়ে আসতেই ২০ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে বাড়তে শুরু করেছে টানাপোড়েন। চাওয়া-পাওয়ার হিসাব মেলাতে গিয়ে তাদের মধ্যে দূরত্ব চরম পর্যায়ে রূপ নিয়েছে। সিটি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তা আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এমনকি বিবিধ অভিযোগে ২০ দলীয় জোট থেকে জামায়াতকে বের করে দেয়ারও পরিকল্পনা শুরু হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে জামায়াত জোটের সঙ্গীদের নিজেদের করে ভবিষ্যত গড়ার পরিকল্পনা করছে বলে জানা গেছে। সূত্র বলছে, জাতীয় রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে জনসমর্থন প্রায় তলানিতে পৌঁছেছে বিএনপির। আর তাই শরিকদের নিজেদের দিকে টেনে ভবিষ্যত গড়তে চায় জামায়াত।

বিএনপির একাধিক নীতি নির্ধারক জানান, জামায়াতের একটি অংশের কার্যক্রমের ওপর অনেক আগে থেকেই তারা নজর রাখতে শুরু করে। নজরদারীতে তাদের কর্মকাণ্ডে গলদ দেখা যায়। দলের হাইকমান্ডও বিষয়টি অবহিত এবং বর্তমানে রাজনৈতিক নানা হিসাব-নিকাশ করেই কোনো কৈফিয়ত চাওয়া হচ্ছে না। আপাতত কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে তা বাস্তবায়ন করতেই সচেষ্ট দলের হাইকমান্ড।

অন্যদিকে জামায়াতকে নিয়ে বিএনপির নেতিবাচক মনোভাবের প্রেক্ষিতে জামায়াতের সিনিয়র নেতারা বলছেন, জামায়াত আর কাউকে কৈফিয়ত দিতে প্রস্তুত নয়। বরং মৃতপ্রায় বিএনপি থেকে বেরিয়ে আলাদা একটি প্লাটফর্মে তৈরি করে নিজেদের অবস্থান জানান দেয়ার মতো সামর্থ জামায়াতের রয়েছে। ২০১৩ ও ২০১৫ সালের ‘আন্দোলনে’ বিএনপিকে ‘সর্বাত্মক সমর্থন’ দিয়ে রাজপথে ছিল জামায়াত। তাদের হিসাবে এ আন্দোলনে জড়িয়ে তাদের তিন লাখ ৬০ হাজার নেতাকর্মী মামলার আসামি হয়েছেন। শতাধিক নেতাকর্মীর মৃত্যু হয়েছে সংঘর্ষ-সহিংসতায়। কিন্তু প্রতিদানের বেলায় ফলাফল শূন্য।

এ বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীর একজন আমীর বলেন, বর্তমানে বিএনপি যে আবস্থানে পতিত হয়েছে তাতে তারা আর মাথা তুলে দাঁড়ানোর মতো অবস্থায় নেই। আর এমন পরিস্থিতিতে তাদের জনসমর্থন যেখানে পৌঁছেছে তা নিয়ে দলের শরিকরাও চিন্তাগ্রস্ত। ফলে আমরা চাইলেও শরিকদের নিয়ে নতুন করে বেড়ে উঠতে পারি। তাতে শরিক দলগুলোর সমর্থনও রয়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে বিশ্লেষকরা বলছেন, যেহেতু কালের বিবর্তনে ২০ দলের প্রধান দুই জোট-শরিক এখন প্রতিদ্বন্দ্বী। ফলে দেখার বিষয় বিএনপির হাতে জামায়াত নাকি জামায়াতের হাতে বিএনপি পরাস্ত হয়।