মদ্যপানে মাতাল হয়ে ভাষণ পিছিয়ে দিয়ে ক্ষোভের মুখে তারেক রহমান

নিউজ ডেস্ক : ঘোষণা দিয়েও শেষ পর্যন্ত জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দেওয়ার অনুষ্ঠান পিছিয়ে দিলেন লন্ডনে পলাতক বিএনপি নেতা তারেক রহমান। লন্ডন সূত্রে জানা গেছে, ব্যক্তিগত ঝামেলা এবং মামলার বিষয়ে ব্যক্তিগত আইনজীবীর সাথে আলোচনার সময়ে অতিরিক্ত মদ্যপান করে হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে ফেলার কারণে নির্ধারিত অনুষ্ঠানটি পিছিয়ে দিতে বাধ্য হন পলাতক এই নেতা।

সাময়িক বাতিলকৃত অনুষ্ঠানটি ৭ আগস্ট লন্ডন সময় বিকেল ৫ টায় (বাংলাদেশ সময় রাত ১১টা) অনুষ্ঠিত হবে বলে সূত্র নিশ্চিত করেছে। এদিকে তারেক রহমানের পূর্ব ঘোষিত অনুষ্ঠান বাতিল হয়ে যাওয়ায় বিরক্তি প্রকাশ করেছেন ঘটনাস্থালে উপস্থিত লন্ডন বিএনপির নেতা-কর্মীরা। এছাড়া বাংলাদেশেও অপেক্ষমান বিএনপির নেতারাও হতাশ হয়েছেন।

লন্ডন বিএনপি সূত্রে জানা যায়, রাজনৈতিক একটি মামলা নিয়ে ব্যক্তিগত আইনজীবীর সাথে অতিরিক্ত সময় ব্যয় করা এবং মাত্রাতিরিক্ত মদ্যপান করে মাতাল হয়ে যাওয়ার কারণে পূর্ব নির্ধারিত অনুষ্ঠান বাতিল করতে বাধ্য হন তারেক। জানা গেছে, বাংলাদেশের চলমান নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের নামে দেশবাসীসহ বিদেশি বন্ধুদের ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে বিষেদগার তৈরি করার জন্য জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দিতে চেয়েছিলেন তারেক। অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছিল স্থানীয় লন্ডন বিএনপি। ভাষণও লিখে রেখেছিলেন যুক্তরাজ্য বিএনপির নেতা মালেক। অনুষ্ঠান উপলক্ষ্যে নেতা-কর্মীরা উপস্থিত হয়েছিলেন ঘন্টাখানেক আগে থেকেই। কিন্তু তারেক রহমান ব্যক্তিগত একটি রাজনৈতিক মামলায় একজন ব্যারিস্টারের সাথে শলা-পরামর্শ করেন। প্রায় দুইঘন্টা চলা এই বৈঠকে রাজনৈতিক মামলায় জামিন বিষয়ে আলোচনা হয়। দুই ঘন্টার এই বৈঠকে টেনশনে প্রচুর মদপান করেন তারেক। বৈঠক শেষে অনেকটা বেসামাল হয়ে পড়েন তারেক। তাই এই পরিস্থিতিতে দেশবাসীর সামনে কথা বললে মদ তারেকের মদপানের বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে যাবে। এমন শঙ্কা থেকে পূর্ব নির্ধারিত ভাষণ বাতিল করেন তারেক।

অনুষ্ঠান বাতিল হয়ে যাওয়ায় ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন লন্ডন বিএনপি নেতারা। কয়েক ঘন্টা অপেক্ষা করে তারেক রহমানের দেখা না পাওয়ায় লন্ডন বিএনপির একাধিক নেতারা দলের দুর্গতির জন্য তারেককে দায়ী করে স্লোগান দিতে দিতে অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেন। এসময় হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে। মূল্যবান সময় নষ্ট করার জন্য তারেক রহমানকে অকথ্য ভাষায় গালি দেন ঘটনাস্থলে উপস্থিত নেতারা। দলের মৃতপ্রায় অবস্থার জন্য তারেকসহ খালেদা জিয়ার স্বেচ্ছাচারিতাকে দায়ী করেন তারা। এদিকে বাংলাদেশ বিএনপি সিনিয়র নেতারাও সময়জ্ঞানহীনতার জন্য তারেক রহমানকে দোষারোপ করেন। কথা দিয়ে কথার বরখেলাপ করার জন্য তারেকের কড়া সমালোচনা করেছেন দলটির একাধিক সিনিয়র নেতা।