পলাতক জীবনই পছন্দ; খালেদার মরা-বাঁচা নিয়ে চিন্তিত নন তারেক

নিউজ ডেস্ক: দুর্নীতির দণ্ড নিয়ে চলতি বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে কারাগারে আছেন বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। দুর্নীতি মামলায় দণ্ড হওয়ায় সত্যকে মেনে নিয়ে বিএনপির নেতারা খালেদা জিয়ার মুক্তি আন্দোলনকে অযৌক্তিক বিবেচনা করে সরে দাঁড়িয়েছেন বলে জানা গেছে। খালেদা জিয়ার মুক্তি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলও নেতিবাচক মন্তব্য করায় হতাশ ও উপায়হীন হয়ে পড়েছেন লন্ডনে পলাতক বিএনপি নেতা তারেক রহমান। নিজের জীবন বাঁচাতে এবং আরাম-আয়েশে দিন কাটাতে লন্ডনেই পড়ে আছেন তারেক। দেশে ফিরে চান না তিনি।

সূত্র বলছে, খালেদা জিয়ার অসুস্থতা নিয়ে কোন রকম মাথা ব্যথা নেই তারেক রহমানের। এমনকি মাকে একবার দেখতেও চাননি তারেক। তারেকের মনোভাব হলো- দুর্নীতির কারণেই বেগম জিয়া জেল খাটছেন। তার জন্য অনুশোচনা প্রকাশ করার অর্থ হচ্ছে দুর্নীতিকে সমর্থন করা। যে দুর্নীতির কারণে বিদেশে পলাতক জীবন যাপন করতে হচ্ছে, সেই দুর্নীতির জন্য কথা বলতে নারাজ তারেক। দেশে ফিরে জেল-হাজতে যেতে রাজি নন তারেক। জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়াকে হেনস্তা করতে হেন কাজ নেই যা তারেক করেননি। চুরি, লুটপাট, বিরামহীন দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার, নিয়োগ বাণিজ্যসহ সব ধরণের অপরাধে জড়িত ছিল তারেক রহমান।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ৯১ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত বিএনপির প্রথম মেয়াদে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলনামূলক কম ছিল। অবশ্য তখন থেকেই দুর্নীতির বরপুত্র তারেক রহমান। এমনকি যে দুর্নীতি মামলায় বেগম জিয়া ৫ বছরের জন্য কারাভোগ করেছেন তার জন্যও দায়ী মূলত তারেক। অথচ মাকে নিঃসঙ্গ কারাগারে ফেলে সৌদি বাদশাহদের মতো ব্রিটেনে বিলাসী জীবন কাটাচ্ছেন সেই তারেকই। ব্রিটেনে জুয়া খেলা এখন তারেক জিয়ার নেশা। মাথা চাড়া দিয়েছে স্থানীয় লন্ডন বিএনপির একাধিক নেতাদের স্ত্রীদের সাথে তারেকের অবৈধ সম্পর্কেরও কথা। মা যেখানে কারাগারের প্রকোষ্ঠে জীবন কাটাচ্ছেন সেখানে তারেক ব্রিটেনের প্রাসাদসম বাড়িতে থাকেন। শুধু ক্ষমতার লোভেই ইচ্ছাকৃতভাবেই নাকি বেগম জিয়াকে জেলে রাখছেন তারেক গং। কারণ এর মাধ্যমে নাকি বিএনপির হারিয়ে যাওয়া জনপ্রিয়তা ফিরে পাচ্ছে। অবশ্য বেগম জিয়ায় জেলে থাকায় দলের একচ্ছত্র অধিপতি তো তারেক রহমানই। সামনে নির্বাচনে যে বিপুল মনোনয়ন বাণিজ্য হবে তার সবই তো এখন লন্ডনে বসে তারেকই হস্তগত করবেন। বিএনপি নামক লাভজনক এক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এখন শুধুই তারই আয়ত্তে। এমন প্রেক্ষাপটে অনেকেই বলছেন, তারেক রহমানকে কু-সন্তান বললেও কম গালি দেওয়া হবে। মাকে নিয়ে যে রাজনীতি করে সে মানুষ নাকি মনুষ্যত্ব বিবর্জিত সন্তান তা বুঝতে বাকি থাকে না।