স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলন নিয়ে কি হচ্ছে পর্দার আড়ালে?

গত ২৯ জুলাই বাস চাপায় অনাকাঙ্খিতভাবে দুই শিক্ষার্থীর নিহতের ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজপথে আন্দোলনে নেমেছে রাজধানীর স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীরা। প্রথমবারের মতো কিশোর বিপ্লবের উত্তাল হাওয়া বইছে দেশজুড়ে। সেই উত্তাল হাওয়ায় ভেসে আসা যৌক্তিক দাবি বাস্তবায়নে পদক্ষেপ নিচ্ছে সরকার।

এদিকে পর্দার আড়ালে এই আন্দোলনকে ঘিরে নাশকতার পরিকল্পনা করছে কুচক্রী মহল। বাংলাদেশে কিছু মানুষ রয়েছে যারা সব সময় নিজেদের স্বার্থ হাসিলে ব্যস্ত থাকে। এদের মধ্যে একটি গ্রুপ রয়েছে যারা এই স্বার্থ আদায়ের জন্য জঙ্গি তৎপরতায় লিপ্ত। ক্ষমতালোভী হায়েনারা কোমলমতি বাচ্চাদের ক্ষতি করে হলেও সরকারকে বেকায়দায় ফেলার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে বোমা হামলা করে একটা স্বার্থান্বেষী মহল দেশটাকে সিরিয়া কিংবা আফগানিস্তান বানাতে চায়।

আন্দোলনরত ছেলেমেয়েরা সহিংস আন্দোলনে অভ্যস্ত নয়, কুচক্রী মহল তাদের দলে ভিড়ে গিয়ে সহিংস আন্দোলনের নামে নাশকতা ছড়িয়ে দিলে আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্মের অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে যাবে। সরকারবিরোধীরা ছদ্মবেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপর হামলা করে শিক্ষার্থীদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিচ্ছে যাতে দেশে একটা অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি হয়। তাই সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনের দাবির যৌক্তিকতা মেনে নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সহ সরকারের উচ্চপদস্থ কর্তারা শিক্ষার্থীদের ৯ দফা দাবি বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। সর্বোপরি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নিহতদের পরিবারকে গণভবনে ডেকে নিয়ে তাদের সমবেদনা জানিয়েছেন এবং আর্থিক সঞ্চয়পত্র প্রদান করেছেন।

আমাদের প্রাণপ্রিয় দেশকে আমরা সবাই ভালোবাসি। নাশকতা করে কোনো মহল আমাদের দেশকে আফগানিস্তান কিংবা সিরিয়ায় পরিণত করুক তা আমাদের কাম্য নয়।

তাই যেহেতু মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নিজে শিক্ষার্থীদের ৯ দফা দাবি বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তাই আবেগ সংযত রেখে প্রধানমন্ত্রীর উপর ভরসা রেখে আন্দোলন স্থগিত করে ফিরে যাওয়াটাই উত্তম বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের কারো রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের হাতিয়ার বানানোর সুযোগ আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের না দেয়ার আহবান জানিয়েছেন অনেকে। আজকের স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীরাই আগামীর বাংলাদেশের ভবিষ্যত। কোনো অবস্থাতেই তাদের নিরাপত্তাকে হুমকির সম্মুখীন করা যাবেনা।