কাস্টমস্ হাউজে চাকুরীর নামে প্রতারণা || রক্ষা পেল চার পরিবারের ৪০ লাখ টাকা

বিশেষ প্রতিনিধি :
চট্টগ্রাম কাস্টমস্ হাউজে চাকুরীর নামে একটি সংঘবদ্ধ চক্র প্রতারণা করে হাতিয়ে নিয়েছে লাখ লাখ টাকা। ভুয়া এই প্রতারণা থেকে ফেনীর পুলিশ সুপার এস.এম জাহাঙ্গীর আলম সরকার বিচক্ষণতায় রক্ষা পেল চার চাকুরী প্রার্থীর ৪০ লাখ টাকা।

সূত্রে জানা গেছে, কোন প্রকার সাক্ষাৎকার ছাড়া ভুয়া বিজ্ঞাপন তৈরি করে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজের অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর ও অফিস সহায়ক পদে লোক নিয়োগের নামে একটি সংঘবদ্ধ চক্র ফেনীর চার ব্যক্তির নিকট থেকে ৪০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার পাঁয়তারা করে। প্রতারণার কবলে পড়া ব্যক্তিরা হলেন- ফেনী পৌরসভার উত্তর শিবপুরের আবদুল কাইয়ুম এর ছেলে শহিদুল ইসলাম, গোলাম নবীর ছেলে শাহাদাত হোসেন, বারাহিপুর গ্রামের আবুল বাশারের মেয়ে বিবি আমেনা ও মজিবুল হকের মেয়ে মর্জিনা আক্তার। এদের নামে ফেনী পুলিশ সুপার কার্যালয়ে কাস্টম হাউজ চট্টগ্রাম (নথি নং-৯(৪২) বো: প্র:-১/২০১৭, তারিখ ০৩/০৯/২০১৭) থেকে ‘সরকারী চাকুরীতে নিয়োগের জন্য নির্বাচিত প্রার্থীদের প্রাক্ চরিত্র প্রতিপাদন’ সংক্রান্ত রিপোর্ট দাখিলের জন্য প্রেরণ করে। প্রেরণকারী কর্মকর্তা হিসেবে দেখানো হয় মো. মফিজুর রহমান, প্রশাসনিক কর্মকর্তা, কাস্টম হাউজ চট্টগ্রাম কে। চক্রটি অন্যতম হোতা নিজেকে আনোয়ার হোসেন পরিচয় দিয়ে চাকুরী প্রার্থী ও তাদের অভিভাবকের নিকট জনপ্রতি ১০ লাখ টাকা দাবী করে। এদিকে পুলিশ প্রতিপাদন এর কাগজপত্র পেয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনার জন্য পুলিশ সুপার এর নিকট উপস্থাপন করে। পুলিশ সুপার এর বিচক্ষণ চিন্তায় কাস্টমস্ কর্মকর্তার স্বাক্ষর ও সিল সন্দেহ হয়। তিনি তাৎক্ষনিক তার কার্যালয়ের ডিআইও (১) শাহীনুজ্জামানকে চাকুরী প্রার্থীদের সাথে যোগাযোগ করার নির্দেশ দেন। আর তাদের সাথে কথা বললে বেরিয়ে আসে থলের বিড়াল।

চাকুরী প্রার্থীরা জানায়, জনৈক ব্যক্তি ২০১৭ সালের মে মাসে ফেনী রেলওয়ে স্টেশান হতে চট্টগ্রাম যাওয়ার পথে নিজেকে চট্টগ্রাম কাস্টমস্ এর বড় কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে গোলাম নবী পাটোয়ারীর নিকট থেকে টিকেট সুবিধা গ্রহণ করে সখ্যতা গড়ে তোলে। একপর্যায়ে গোলাম নবীর সন্তান ও আতœীয়দের চাকুরীর প্রয়োজন হলে তার সাথে যোগাযোগ করতে বলেন। আগস্ট মাসের মাঝামাঝি সময়ে নিজেকে বেগমগঞ্জের আমিশা পাড়ার লোক পরিচয়দানকারী আনোয়ার গোলাম নবীর সাথে যোগাযোগ করে জানান কাস্টমস্ েলোক নিয়োগ হচ্ছে। তার সন্তান বা আতœীয়দের যারা চাকুরী প্রার্থী তাদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রেরণ করার জন্য। গোলাম নবী সরল বিশ^াসে নিজ সন্তান, ভাই ও দুই আতœীয়কে ঘটনা অবহিত করে আনোয়ারের নিকট চাকুরীর জন্য পাঠান। প্রতি চাকুরীর বিপরীতে ১০ লাখ টাকা করে অলিখিত চুক্তি হয়। কাগজপত্র পেয়ে আনোয়ার (০১৮২৯ ৮৭৪০৭৬) টাকার জন্য চাপ দিতে থাকেন। নিজেকে বড় কর্মকর্তা পরিচয়দানকারী আনোয়ার চাকুরী প্রার্থীর অভিভাবকদের জানান- কোন রকম পরীক্ষা বা সাক্ষাৎকার ছাড়াই নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। এজন্য পুলিশ ভেরিফিকেশনের জন্য কাগজপত্র ফেনী পুলিশ সুপার কার্যালয়ে পৌঁছে গেছে। চট্টগ্রামে টাকা বুঝে ফেলে হাতে হাতে নিয়োগ পত্র বুঝিয়ে দেবেন। চাকুরী প্রার্থীরা টাকা নিয়ে চট্টগ্রাম যাওয়ার আগেই পুলিশ ওই বাড়িতে হাজির হয়ে টাকা দিতে নিষেধ করেন।

অন্যদিকে ফেনীর পুলিশ সুপার এস.এম জাহাঙ্গীর আলম সরকার চট্টগ্রাম কাস্টমস্ হাউজের প্রশাসনিক কর্মকর্তা পদবীর মফিজুর রহমান প্রকৃত অবস্থান, পদবী ও মোবাইল নাম্বার যাচাইয়ের জন্য সিএমপি চট্টগ্রামের সিটি স্পেশাল ব্রাঞ্চের বিশেষ পুলিশ সুপারকে অনুরোধ করেন। বিশেষ পুলিশ সুপার সিএমপি থেকে জানানো হয় এই নামে কোন কর্মকর্তা নেই। চাকুরীর বিজ্ঞাপন কিংবা নিয়োগ সবই ভুয়া। আর পুলিশ সুপারের বিচক্ষনতায় রক্ষা পেল চার চাকুরী প্রার্থীর ৪০ লাখ টাকা।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, প্রতারক নিজেকে বেগমগঞ্জের আমিশা পাড়ার আনোয়ার পরিচয় দিলেও প্রতারকের প্রকৃত নাম নিজাম উদ্দিন আহাম্মদ। সে নোয়াখালীর চৌধুরী পাড়ার মো. মোস্তফা চৌধুরী ও ফেরদৌস আরা বেগম এর ছেলে। তার জাতীয় পরিচয়পত্র নং ৩০১৫১৪০৭৭৭২৯১।

ফেনীর পুলিশ সুপার এস.এম জাহাঙ্গীর আলম সরকার বলেন, প্রতারক নিজাম উদ্দিন আহাম্মদকে ধরতে পুলিশ কাজ করছে। সে মোবাইল ফোনটি বন্ধ করে আতœগোপন করেছে। অচিরেই এই প্রতারক পুলিশের হাতে ধরা পড়বে। আর বেরিয়ে আসবে সংঘবদ্ধ চক্রের অন্য হোতারা।