শ্রমিকদের নিয়ে ষড়যন্ত্র: মেহনতি মানুষদের নিয়ে অপরাজনীতির কূটকৌশল

বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গড়তে ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় দেশ গড়ায় শ্রমিকদেরও অন্যতম ভূমিকা ছিল। কারণ মুক্তিযুদ্ধে গিয়েছিল গরিব, কৃষক, শ্রমিক সমাজের মধ্যবিত্ত মানুষরা। শ্রমিকদের ভাগ্য উন্নয়নে ন্যুনতম মজুরি নির্ধারণের পাশাপাশি সকল ধরণের মৌলিক সুবিধা প্রদান পূর্বক সরকার তাদের দাবি দাওয়ার প্রতি আন্তরিক। অথচ সাম্প্রতিক সময়ে সেই শ্রমিক বন্ধুদেরই সরকারের মুখোমুখি দাঁড় করাতে হীন রাজনৈতিক চাল চালে বিএনপি এবং জামায়াত।

সাম্প্রতিক সময়ে ‘জাবালে নূর’ পরিবহনের দুটি বাসের সংঘর্ষে প্রাণ হারায় রমিজউদ্দিন ক্যান্ট: পাবলিক স্কুলের দুই শিক্ষার্থী। এরপর শুরু হয় ছাত্র আন্দোলন। সরকার আইনের আওতায় আনে ঘাতক বাস চালক এবং পরিবহন মালিককে। বিশেষজ্ঞ এবং সাধারণ মানুষ সাধুবাদ জানায় সরকারের এমন উদ্যোগকে। কিন্তু অপরাধের বিচার করায় একে ইস্যু বানিয়ে শ্রমিকদের কাছে সরকারকে খলনায়ক বানাতে মাঠে নামে বিএনপি। নৌমন্ত্রী শাহজাহান খান পরিবহন শ্রমিক নেতা হওয়া সত্বেও আইনের পক্ষে অবস্থান নেন এবং নিজের আগের বক্তব্যের জন্য ক্ষমা চান। কিন্তু তাতেও তুষ্ট হয়নি বিরোধী জোট।

বাংলাদেশ মেহনতি মানুষের দেশ। কঠোর শ্রমের বিনিময়ে উপার্জন করে এদেশের সিংহভাগ মানুষ। আর তাই গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে, ভোটের হিসাবে শ্রমজীবী এই বিপুল সংখ্যা অনেক বড় ফ্যাক্টর। আর তাই নির্বাচনের আগে বড় ধরণের কুপরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নামার আয়োজন করেছিল বিএনপি। কিন্তু মানুষের সমর্থনের অভাব আর সরকারের জনপ্রিয়তার কল্যাণে ব্যর্থ হয় বিএনপির সব পরিকল্পনা।

মালিকদের প্রতি অনুরোধ রেখে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘বঙ্গবন্ধু দেশের শ্রমিকদের জন্য মজুরি কমিশন গঠন করেছিলেন এবং ১ মে সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছিলেন। শ্রমিকরা মাথার ঘাম পায়ে ফেলে আপনাদের জন্য উৎপাদন করে, আপনি ব্যবসা করেন, অর্থ উপার্জন করেন, আপনারা ভালো থাকেন, আপনার পরিবার ভালো থাকে, সেই শ্রমিকদের প্রতিও আপনাদের আন্তরিক হতে হবে। অর্থাৎ মালিক শ্রমিক ভাই-ভাই, সবার জন্য সোনার বাংলা গড়তে চাই। মালিক শ্রমিক একে অপরের শক্তি হয়ে কাজ করতে হবে’।

বর্তমান সরকার শ্রমবান্ধব। মেহনতি মানুষের ন্যায্য অংশ তাদের হাতে পৌঁছে দিতে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে সরকার। আর তাই সকলকে সকল ধরণের অপপ্রচার আর অপরাজনীতির বিরুদ্ধে সজাগ সচেষ্ট থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি সবার অংশগ্রহণে সমান দীপ্তিতে ভাস্বর।

 

 

আজিজ পাশা, লেখক।